সম্প্রতি স্থানান্তরিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জায়গায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হল করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দিয়েছেন ওই এলাকার ব্যবসায়ীরা। রক্ত দিয়ে হলেও তা প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
তারা বলেন, ‘পুরান ঢাকাবাসী রক্ত দেবে, তবুও কারাগারের এক ইঞ্চি জমি দেবে না।’
এ ছাড়া আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে হল নির্মাণের দাবিতে চলমান আন্দোলন বন্ধ না করলে আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টায় কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে প্রতিবাদ সভা করে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণারও হুমকি দেন তারা।
ব্যবসায়ী ঐক্য ফোরামের ব্যানারে সোমবার (২৯ আগস্ট) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক সংবাদ সম্মেলন করে এ হুমকি দেন ব্যবসায়ীরা।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী ঐক্য ফোরামের সভাপতি আলহাজ আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক আবু মোতালেবসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে আবু মোতালেব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের জমিতে বঙ্গবন্ধু মিউজিয়াম, চার নেতার স্মরণে জাদুঘর, শিশু পার্ক, কমিউনিটি সেন্টার, সুইমিং পুল, বহুতল বিশিষ্ট কারপার্কিংসহ বিনোদনের ব্যবস্থা করবেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একনেক মিটিংয়ে এই প্রকল্প অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।’
‘কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির বিরুদ্ধে গিয়ে কিছু দুষ্কৃতি মহল ও ভূমিদস্যু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির মাধ্যমে কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের দিয়ে ছাত্রাবাসের দাবির নামে জ্বালাও-পোড়াও করে পুরান ঢাকায় অস্থিরতা তৈরি করছে’ বলে অভিযোগ করেন আবু মোতালেব।
কেন্দ্রীয় কারাগারের জমিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হলের দাবি অযৌক্তিক উল্লেখ করে পুরান ঢাকার এই ব্যবসায়ী নেতা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এবং ছাত্রদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘অযথা ঝামেলা করবেন না। আপনাদের ছাত্রাবাস হোক আমরা চাই কিন্তু এই ঘনবসতি ঘিঞ্জি এলাকায় নয়। কেরানীগঞ্জে অনেক জায়গা আছে যা আধুনিক ছাত্রাবাসের উপযুক্ত।’
‘আমরাও অভিভাবক হিসেবে আপনাদের উন্নত পরিবেশে অন্যত্র ছাত্রাবাসের দাবি করছি। তবে ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় কারাগারের জায়গায় না। আর যদি আপনারা এরপরও বাড়াবাড়ি করেন তবে আমরা অযৌক্তিক কোনো দাবির কাছে মাথানত করব না। পুরান ঢাকাবাসীর ছেলে-মেয়েরা বিভিন্ন কলেজ, ভার্সিটিতে লেখাপড়া করে। আমরা সকল পুরান ঢাকাবাসী অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব’ বলেন আবু মোতালেব।
তিনি আরও বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কারও সঙ্গে আঁতাত করে এই আন্দোলন করছেন। তিনি যদি এই আন্দোলন বন্ধ না করেন, তবে ব্যবসায়ীরা লাগাতার অবরোধ করে এই ভিসিকে উৎখাত করবে।’
তিনি জানান, ২২৮ বছর আগে তৈরি কেন্দ্রীয় কারাগার বর্তমান জনবহুল পুরান ঢাকায় বিভিন্ন সমস্যা তৈরির কারণ। পুরান ঢাকাবাসীর জন্য কোনো খেলার মাঠ নেই, শিশুদের জন্য পার্ক নেই, মা-বোনদের হাঁটার জায়গা নেই, বিনোদনের কোনো ব্যবস্থা নেই। একসময় পুরাতন ঢাকার গর্ব ছিল ঢাকা বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত। সেই গর্ব আর নেই। বুড়িগঙ্গার পানির দুর্গন্ধে রাতে শিশু সন্তানদের নিয়ে শান্তিতে ঘুমানো যায় না। বুড়িগঙ্গা ভূমিদস্যুদের কবলে পড়ে নিঃস্ব হয়ে গিয়েছে।
‘এখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি তার স্বার্থ হাসিলের জন্য শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় কারগারের স্থানে হলের দাবিতে আন্দোলনে নামিয়েছেন। এর আগে একটি মার্কেটের স্থানে হলের দাবিতে এই ভিসি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নামান। কিন্তু পরবর্তীতে ওই মার্কেট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আঁতাত করে ভিসি কোটি টাকার সুবিধা নিয়ে আন্দোলন থেকে সরে আসেন’ বলে দাবি করেন আবু মোতালেব।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘আগে জগন্নাথ কলেজের যে হলগুলো ছিল তা ঘিঞ্জি এলাকায় এবং ওই স্থানগুলোর মালিক জগন্নাথ কলেজ কর্তৃপক্ষ ছিল না। ওই জায়গা ছিল হিন্দুদের খাসজমি। ওই সব হলের ছাত্ররা এলাকার মেয়েদের ইভটিজিং করত। যে কারণে পুরান ঢাকাবাসী তাদের উৎখাত করেছে।’
উল্লেখ্য, হল নির্মাণের দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গত কয়েক দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। তবে আন্দোলনরতদের ওপর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ শিক্ষণার্থীরা।

এম এ