আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য ৩৯৪ কোটি ১৪ লাখ ৭৭ হাজার ৫১৭ টাকা বাজেট বরাদ্দ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবে- পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার-ভিডিপি, কোস্টগার্ড, এপিবিএন ও স্বশস্ত্র বাহিনী। বাজেটের এই টাকা এইসব বাহিনীর মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে বলে আজ (২৩ ডিসেম্বর) রোববার নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বাজেটের ৩৯৪ কোটি ১৪ লাখ ৭৭ হাজার ৫১৭ টাকার মধ্যে বাংলাদেশের পুলিশের ১০১ কোটি ২৬ লাখ ৮৪ হাজার ২৫০ টাকা, র‌্যাবের  ১৩ কোটি ৫১ লাখ ৮০ হাজার ৫০০ টাকা। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ১ কোটি ৫৬ লাখ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৫৩ কোটি ৬১ লাখ ৩৪ হাজার ২৩২ টাকা। আনসার ও ভিডিপি ১৬৩ কোটি ৮১ লাখ ৭৫ হাজার ৬৫০ টাকা এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে ৬০ কোটি ৩৭ লাখ ২ হাজার ৯৫০ টাকা দেওয়া হয়েছে।  

বাজেট শাখা সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের জন্য বাজেট ১০১ কোটি ২৬ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। এরমধ্যে প্রথম ধাপে ৬৩ কোটি ২২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। দ্বিতীয় ধাপে ৩৮ কোটি ৪ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে। র্যাবের মোট বরাদ্দ ১৩ কোটি ৫১ লাখ ৮০ হাজার টাকার মধ্যে প্রথম ধাপে ১০ কোটি ২০ লাখ ২৯ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় ধাপে ৩ কোটি ৩১ লাখ ৫১ হাজার টাকা। কোস্ট গার্ডের জন্য মোট বরাদ্দ এক কোটি ৫৬ লাখ টাকার পুরোটাই প্রথম ধাপে পরিশোধ করা হয়েছে। বিজিবির ৫৩ কোটি ৬১ লাখ ৩৪ হাজার টাকার মধ্যে প্রথম ধাপে ৩৩ কোটি ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় ধাপে ২০ কোটি ৫৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। আনসার বিডিপির জন্য বরাদ্দকৃত ১৬৩ কোটি ৮১ লাখ ৭৬ হাজার টাকার পুরোটাই অগ্রিম হিসেবে একধাপে প্রদান করা হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর ৬০ কোটি ৩৭ লাখ ৩ হাজার টাকার মধ্যে পুরোটাই আগাম দেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ইসির সঙ্গে এক বৈঠকে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, বিগত নির্বাচনে মোট কেন্দ্র ছিল ৩৭ হাজার ৭০৭ কিছু বেশি। কিন্তু নির্বাচন হয়েছে ১৮ হাজার ২০৮ কেন্দ্রে। বাকি নির্বাচনী আসনে একক প্রার্থী জয়ী হওয়া ভোটের প্রয়োজন হয়নি। ফলে বাড়তি লোকবল প্রয়োজন পড়েনি। কিন্তু এবার ৪০ হাজার ১৯৯টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। হিসেব অনুযায়ী এবার ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা দিগুণের চেয়েও বেশি। ফলে দিগুণ জনবল প্রয়োজন। এ ছাড়া বিগত নির্বাচনের তুলনায় এবার ভাতার পরিমাণ বেড়েছে। তাই বিগত সময়ের হিসেব অনুযায়ী বরাদ্দ দিলে সেটি বণ্টনে সমস্যা হবে।

জানা গেছে, ২০১৪ সালের নির্বাচনে সশস্ত্রবাহিনীর জন্য ৫৭ কোটি ২৬ লাখ ৭৪ হাজার ৭৪০ টাকা। পুলিশের জন্য ৫৯ কোটি ৩৮ লাখ ৩৭ হাজার ২৭৯ টাকা, বিজিবির জন্য ১৭ কোটি ১৪ লাখ ৭৬ হাজার ৩৩৫ টাকা, আনসার বাহিনীর জন্য ৬৩ কোটি ২১ লাখ ৯৯ হাজার ৩০২ টাকা বরাদ্দ ছিল।

এবারই প্রথমবারের মতো ভোটকেন্দ্রের পাহারায় নির্বাচনে নামানো হচ্ছে গ্রাম পুলিশ (দফাদার ও চৌকিদার) তারা মাঠে থাকবেন দুই দিনের জন্য। ভোটের মাঠে দুই দিন দায়িত্ব পালন করবেন ৪২ হাজারের বেশি গ্রাম পুলিশ।

তফসিল অনুসারে, আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এসএম/এমবি