বরিশাল মেরিন অ্যাকাডেমির দরপত্র জমা দেওয়া নিয়ে ছাত্রলীগের দু'পক্ষের মারামারিতে চারজন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার সকালে গণপূর্ত বিভাগ বরিশালের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বরিশাল মেরিন অ্যাকাডেমির পাঁচ কোটি ২৫ লাখ টাকার একটি দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল আজ। জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক এবং ব্রজমোহন কলেজ (বিএম) শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মঈন তুষার তাঁদের সমর্থকদের নিয়ে দরপত্র জমা দিতে যান। এ সময় দু পক্ষের লোকজনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা মারামারিতে রূপ নেয়। এতে চারজন আহত হন। তাঁদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা কক্ষের চেয়ার ও টেবিলের কাচ ভাঙচুর করে।

মঈন তুষার অভিযোগ করে বলেন, আবদুর রাজ্জাক যুবলীগ নেতা সাদিক আবদুল্লাহর দোহাই দিয়ে কাজ বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। আমরা দরপত্র জমা দিতে গেলে তাঁর লোকজন আমাদের বাধা দেয়। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।

অন্যদিকে আবদুর রাজ্জাক বলেন, আমি আমার এক বড় ভাইয়ের (নাম প্রকাশ করেননি) সঙ্গে দরপত্র জমা দিতে গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কক্ষে যাই। আগে থেকেই ওই কক্ষে বসা ছিল মঈন তুষার। আমাদের দেখেই সে অকথ্য ভাষায় গালাগাল দিতে শুরু করে। তাঁর লোকেরা আমাদের দরপত্র জমা দিতে বাধা দেয়। একপর্যায়ে আমার গায়ে হাত তোলে। চেয়ার তুলে মারতে চায়। পরে আমাদের সঙ্গে থাকা ছোট ভাইয়েরা তাঁকে গণধোলাই দেয়।

সাদিক আবদুল্লাহর হয়ে দরপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে আবদুর রাজ্জাক বলেন, আমি সাদিক আবদুল্লার হয়ে সেখানে যাইনি। আমার নিজের পরিচয় আছে। তিনি উল্টো অভিযোগ করেন, মঈন তুষার শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর দোহাই দিয়ে দরপত্র জমা দিতে বাধা দেয়। এ সময় তারা ওই কার্যালয়ে ভাঙচুরও চালায়।

তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মনির আহম্মেদ বলেন, বেলা ১১টার দিকে দরপত্র জমা দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তাঁরা ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগের কি না, জানি না।

কেএইচ