চলমান অবরোধে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে দিন দিন বেড়েই চলছে দুর্বৃত্তদের মরণঘাতী পেট্রোবোমা হমলা। এমনকি পুলিশ প্রশাসন পাহারারত চলন্ত গাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটছে।
ফলে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাচ্ছে খেটে খাওয়া হেলপার ড্রাইভারসহ সাধারণ যাত্রীরা।পুড়ে ছাই হচ্ছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আহার রিজিকের একমাত্র অবলম্বন বাস-ট্রাক। এতে করে আতংক বিরাজ করছে দক্ষিণা মানুষদের মধ্যে।তথ্য সূত্রে জানা যায় গত ১৮ জানুয়ারী বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের উজিরপুর এলাকায় বসে দুর্বৃত্তরা পেট্রোলবোমা ছুড়লে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার অন্ধ মায়ের একমাত্র অবলম্বন ট্রাকের হেলপার সোহাগ(১৭) অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায়। সাথে থাকা ড্রাইভার রিপন আশংকাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেলে ভর্তি হন।
২১ জানুয়ারী খয়রাবাদ নদীর ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে একটি বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করলে ১০ যাত্রী আগুনে পুড়ে আহত হয়। ২৩ জানুয়ারী রাতে আব্দুর রব সেরনিয়াবাত (দপদপিয়া) সেতু এলাকায় পেট্রোলবোমার আগুনে পণ্যবোঝাই ট্রাকের চালক শফিউদ্দিন (৪৫)হেলপার মো. রুবেল’র (২২)শরীর মারাত্মক ভাবে ঝলসে যায়।তারা জীবিত আছেন কিনা জানা যায়নি।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদীর সুন্দরদী পুলিশের পাহাড়ারত চলন্ত গাড়ীতে বোমা হামলা হলে চালক নূর হোসেন (৪০) ও হেলপার আবু জাফর রাঢ়ী (৩৮) নিহত হয়।
সর্বশেষ গত শনিবার কাকডাকা ভোরে পেট্রোল বোমা হামলায় মারা যায় তিনজন। পুলিশ প্রশাসন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অবরোধের এক মাসে এই ২৩ কিলোমিটারে হামলা-ভাংচুর হয়েছে অন্তত শতাধিক যানবাহনে। পেট্রলবোমার আগুনে পুড়েছে ৬টি বাস, ট্রাক ও টেম্পো।
এসব ঘটনায় ৬ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আহত হয়েছে অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ। অনুসন্ধানে জানা যায়,বরিশাল ঢাকা মহাসড়কের ভুরঘাটা জিরো পয়েন্ট থেকে বাখেরগঞ্জ পর্যন্ত ২৩ কিলোমিটার পথ দখলে নিয়েছে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপকারীরা।
ঘুরে ফিরে এই সীমানার মধ্যেই হামলা করে তারা।বিপরীতে প্রায় ৩০০ পুলিশ-আনসার, ৮টি টহল গাড়ি এবং ৭টি চেক-পোস্ট বসিয়েও জান মালের নিরাপত্তা দিতে পরছে না।
সরেজমিনে বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার এহসানউল্লাকেও ভোররাত পর্যন্ত পাহারা দিতে দেখা গেলেও নিয়ন্ত্রণে আসছেনা মহাসড়কে পেট্রোল বোমা হামলা।
তিনি জানান, প্রতিটি বড় ধরনের হামলা, অগ্নিসংযোগের পর মামলা দায়ের করা হচ্ছে। গ্রেফতার করা হয় অবরোধকারীদের। তারপরেও এ ধরনের ঘটনার কারনে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল ২০ দলীয় জোটের আহবায়ক মজিবর রহমান সরোয়ার জানান,তার বিভাগে জোটের কোন নেতা কর্মী বোমা হামলা করে না।
পুলিশের হয়রানীর কারনে আমাদের কোন নেতাকর্মী এলাকায় থাকতে পারছেনা।তাহলে কারা হামলা চালায় সেটা বের করা সরকার ও প্রশাসনের দ্বায়িত্ব।
এসএইচ





