গভীর রাতে বসতঘরে ঢুকে ধর্ষণ করার সময় মেয়ের আর্তচিৎকারে সম্ভ্রম রক্ষার চেষ্টা করে মেয়েটির বাবা। এ সময় কোনোভাবেই কুলোতে না পেরে বাবা ধর্ষক যুবলীগ নেতাকে দা দিয়ে উপর্যপুরী কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
আহত যুবলীগ নেতা মো.হাসিম উদ্দিন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
গত শনিবার গভীরাতে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের সংগ্রামখেলী গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।
এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হলে আজ সোমবার পুলিশ ওই গ্রামে গিয়ে ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। ধর্ষক হাসিম উপজেলার শেরপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও এলাকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি।
এ ব্যাপারে প্রতিবেশী রশিদুল ইসলাম (২২) বলেন, তিনি শনিবার রাতে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি একটি স্থানে মাছ ধরছিলেন। চিৎকার শুনে তাঁর কাছে গিয়ে দেখতে পান হাসিম উদ্দিন আহত অবস্থায় তার স্বজনদের ডাকাডাকি করছেন। এ সময় ওই নেতা চিৎকার করে বলতে থাকেন মেয়ের বাবা তাকে কুপিয়েছে।
এছাড়া প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ওই নেতার শরীরে প্রায় ১০টির বেশি গুরুতর জখম রয়েছে। পরে তাকে আহত অবস্থায় নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরো এক প্রতিবেশী বলেন, ওই ঘটনার সময় শেরপুর ইউনিয়নের একজন জনপ্রতিনিধিকে ঘটনাস্থল থেকে পালাতে দেখা গেছে।
তবে আজ সোমবার থানায় গিয়ে দেখা যায় ধর্ষিতার বাবা নির্যাতিত মেয়েকে নিয়ে থানায় অভিযোগ দিতে এসেছেন। তিনি জানান, গত শনিবার দুপুরে তার মেয়ে পাশের বাড়ির বখাটে সোহেল কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়। এ ঘটনাটি এলাকার সালিশকারী যুবলীগ নেতা হাসিম উদ্দিনকে জানালে 'তিনি রাতে এসে বিস্তারিত শুনবেন'- এ কথা বলে বিদায় করে দেন। পরে রাত আনুমানিক ২টার দিকে মেয়ের শয়ন কক্ষে প্রবেশ করে দরজা লাগিয়ে দেয় যুবলীগ নেতা হাসিম।
এক পর্যায়ে ঘরের ভেতর থেকে মেয়ের চিৎকার শুনে দড়জা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে দেখতে পান ওই নেতা তার মেয়েকে ধর্ষণ করছে। এতে বাধা দিতে গেলে তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। পরে তিনি ঘরে থাকা দা দিয়ে উপর্যপুরী কুপাতে থাকলে হাসিম দৌড়ে ঘর থেকে বেড়িয়ে যায়। এ ঘটনার পর ভয়ে তিনি মেয়ে ও তার স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।
কিন্তু এ বিষয়ে ধর্ষকের ছোট ভাই জাহিদুল ইসলাম পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, মেয়ের বাবা তার ভাইকে পান খেতে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে এ ঘটনা ঘটায়।
এ ব্যাপারে নান্দাইল মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মো. সোহরাওয়ার্দি বলেন, যুবলীগ নেতার আহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় নানা ধরনের বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে শেরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন ভুইয়া বলেন, তিনি ওই নেতাকে কোপানোর কথা শুনেছেন। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা তিনি বলতে পারবেন না।
এ সময় ক্ষেতে পড়ে গিয়ে কর্দমাক্ত হওয়ার ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্থানীয় এমপির একটি সভার কাজ শেষ করে ওই পথ দিয়ে ফেরার পথে মোটরসাইকেলসহ কাদায় পড়ে যান তিনি। পরে তিনি পাশের একটি বাড়ি থেকে লুঙ্গি চেয়ে নিয়ে তা পড়ে নান্দাইল সদরে ফিরে আসেন।
ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, কেএইচ





