গান হচ্ছে মানুষের মনের খোরাক। কেউ সুখে গান করে। কেউ দুখে গান করে। আবার অনেকেই গানকে নিজের পেশা হিসেবে বেছে নেয়। তাদেরই মতো গানকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী উজ্জ্বল মিয়া (২৮)।
তিনি হারমনিয়াম, ঢোল, তবলা, বাঁশিতে সুর তোলেন। তিনি অনেকের মতো টাকার পেছনে ছুটেন না। একের পর এক গানের প্রোগ্রামও রাখেন না। উজ্জল মিয়া হাট বাজার, স্কুল কলেজের সামনে, শপিং মলের সামনে, যে কোন ধরণের অনুষ্ঠানে গান করেন। তার গান শোনার পর শ্রোতারা টাকার মাধ্যমে দিয়ে তাকে সহযোগিতা করে । সেই সহযোগিতায় তার সংসারের সব খরচ চলে।
উজ্জল মিয়া রাজশাহী জেলার সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট এলাকার রাকিবুল হাসান হিমেলের ছেলে। ৩ বছর বয়সে তার শরীরে বসন্ত ওঠার পর তার দুটি চোখ অন্ধ হয়ে যায়।
পিএসটিসি গোবারমেন্ট ব্লাইন্ট স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। রাজশাহী শহরের টিকোর হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক পড়াশুনা করেন। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে রাজশাহী মহানগর কলেজ থেকে ।
লেখাপড়া শেষে শহরেই গানের ওস্তাদ রবিউল হোসেনের নিকট গান শিখেন। তারপর গত ৫ বছর যাবৎ তিনি বিভিন্ন জায়গায় গান করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তিনি বর্তমানে টাঙ্গাইল শহরের বেসিস্ট্যান্ডে তার চাচা আব্দুল মালেক মিয়ার বাসায় থাকেন।
উজ্জল মিয়া বলেন, আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন। আমি স্বাভাবিক জীবনে থাকলে কোন না কোন পেশা আমাকে বেছে নিতে হইতো। আমি প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে স্বাভাবিক মানুষের মতোই গান করে বেড়াই। এইভাবে গান করতে আমার ভালই লাগে। আমাকে যারা সহযোগিতা করেন, তারা এর সওয়াব আজীবন পাবেন।
উজ্জল মিয়ার চাচা আব্দুল মালেক বলেন, আমার ভাতিজাকে ২ বছর আগে টাঙ্গাইল আমার বাসায় নিয়ে আসি। তাকে নিয়ে হাট-বাজার, শপিং মল, স্কুল কলেজের সামনে বসিয়ে গান করাই। এতে করে উজ্জলেরও সহযোগিতা হয়, আমারও সংসার চলে যায়।
কাওছার/জেড





