রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামিয়া কলেজের শিক্ষার্থী ও শিবির কর্মী সবুজ আলীকে গ্রেফতারের পর পুলিশ পায়ে গুলি করেছে বলে অভিযোগ করেছে গ্রেফতারকৃতের পরিবার।

গত মঙ্গলবার রাতে নগরীর কাটাখালীর শ্যামপুর থেকে তাকে আটকের পর প্রথমে স্বীকার করলেও পরে তা অস্বীকার করে মতিহার থানা পুলিশ। পরে বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সবুজ আলীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাওয়া যায়।

শিবিরকর্মী সবুজ আলী আটকের বিষয়ে মঙ্গলবার সকালে নগরীর মতিহার থানার ডিউটি অফিসার কাজল রেখা আটকের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সবুজ নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রউফ।

সবুজের পিতা সাদেক মন্ডলের সাথে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে কাটাখালী আবহাওয়া অফিসের পাশে শ্যামপুর (নানার বাড়ী) থেকে সবুজকে আটক করে পুলিশ। আটকের পরদিন সকালে পরিবার থেকে ৩/৪ জন থানায় গিয়ে সবুজের সাথে দেখা করে এবং তাকে খাবার দিয়ে আসে।

এরপর দুপুরে খাবার নিয়ে দেখা করতে গেলে থানার দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, সবুজ নামের কেউ এখানে নেই এবং এ নামের কাউকে আটক করা হয়নি। এমন খবর শুনার পর থেকেই আমাদের মধ্যে ভীতি কাজ করছিল যে পুলিশ সবুজের বড় ধরনের ক্ষতি করে ফেলবে।

তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে এক পুলিশ কর্মকর্তা আমার নাম্বারে ফোন করে জানায় তোমার ছেলেকে দেখতে চাইলে এই মুহুর্তে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসতে হবে। এ খবর শুনে তিনি রাত ২টার দিকে মেডিকেলে পৌছে সবুজের ডান পায়ের হাঁটুর নিচে গুলীবিদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। বর্তমানে সবুজ পুলিশের হেফাযতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে বুধবার সকালে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রউফ বলেন, সবুজকে নিয়ে বিনোদপুর মতিমহলের আশেপাশে অভিযান চালালে সে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে লক্ষ্য করে রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে সে গুরুতর আহত হয়। সে এখান রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন বলে জানান তিনি।

এদিকে সবুজের সাথে মির্জাপুর এলাকার রিপন নামের অপর এক শিবির কর্মীকেও আটক করে মতিহার থানা পুলিশ। পরে আটকের বিষয়টি পুলিশ অস্বীকার করলে সবুজ ও রিপনের পরিবার মঙ্গলবার নগরীর একটি রেস্তোরায় এক সংবাদ সম্মেলন করেন। তবে সবুজকে গুলিবৃদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেলেও রিপনের কোন খোজ পায়নি তার পরিবার।

ইআর