ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তে পারে, বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে এমন সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।
তিনি বলেন, আজ থেকে ডিএসসিসির স্বাস্থ্যকর্মীরা মাঠে থাকবেন। ডেঙ্গু ছাড়াও অন্য কোন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন হলেও হটলাইন ০৯৬১১০০০৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে স্বাস্থ্যকর্মী বাসায় চলে যাবে। এছাড়া চলতি মাসেই সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডেঙ্গুর আবাস বা জন্মস্থান ধ্বংস করা হবে বলে ঘোষণা দেন সাঈদ খোকন।
আজ সোমবার ডিএসসিসি’র আয়োজনে নগর ভবনে ‘বিশেষ প্রাথমিক সেবাপক্ষ ২০১৯’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআর’রর দেয়া তথ্য মতে এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে এমন রোগীর সংখ্যা ৩ জন। কিন্তু কিছু সংবাদমাধ্যম নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে বলেছে, ডেঙ্গুতে মারা গেছে ১১ জন। জনমনে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে এমন সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকুন।’
সাঈদ খোকন বলেন, ‘ডিএসসিসির পক্ষ থেকে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে নাগরিকদের ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসাসেবা দিতে প্রস্তুত রয়েছি। ৬৭টি মেডিকেল টিম গঠন করেছি। বিভিন্ন এলাকায় ৪৭৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যকর্মীরা অবস্থান নেবেন, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেবেন।’
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীরা রোগীকে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন মনে করলে, তারাই সকল ব্যবস্থা নেবেন। আর যদি ঘরে রেখে সুস্থ করানো যায় তাহলে সেই হিসেবে চিকিৎসাসেবা দেবেন।
তিনি বলেন, ‘সার্বিকভাবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা ডেঙ্গু প্রতিহত করব। যতক্ষণ পর্যন্ত সম্পূর্ণ ডেঙ্গুমুক্ত নগরী না হবে আমরাও হাল ছাড়ছি না।’
মেয়র বলেন, এবার ৪ হাজার ২৪৭ জন নাগরিক বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গুর চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। এরা শুধু ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের নাগরিক নয়, এরা দেশের বিভিন্ন এলাকার। ডিএসসিসিতে ৭ জুলাই থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৮৪ জন, যাদের ৩৪ জন এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সময় যত যাচ্ছে রোগীর সংখ্যা তত কমে আসছে।
ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরিফ আহমেদ। এছাড়া ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সাব-এসিসট্যান্ট কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসারগণ এ সময় বক্তব্য রাখেন।
এমআর





