আগামী ৩১ জুলাই মধ্যরাত থেকে ভারতের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময় শুরু হচ্ছে।
সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে পাঠানো চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরে চুক্তি অনুসমর্থনের দলিল হস্তান্তরের দু'দিনের মধ্যে এই তথ্য জানানো হলো।
স্থল সীমান্ত নিয়ে দুদেশের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানের পর এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে অর্ধলক্ষ মানুষের মুক্তির পথ খুলবে।
১৯৭৪ সালের চুক্তি, ২০১১ সালের প্রটোকল কার্যকরে দুদেশের পররাষ্ট্র সচিবের বিনিময় করা চিঠি সোমবার ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন থেকে পাঠানো হয়। একই চিঠি আসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ৩১ জুলাই মধ্যরাতে ছিটমহল বিনিময় শুরুর চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরুর আগে বিচ্ছিন্ন ওইসব ভূমিতে দুই দেশের কর্মকর্তাদের যৌথ পরিদর্শন হবে।
ভূমি বিনিময়ের জন্য ভারতের সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হওয়ায় এই সমস্যা ঝুলে ছিল দশকের পর দশক। গত মে মাসে ভারতের পার্লামেন্টে ওই বিল পাস হয়।
এরপর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরে আসেন গত শনিবার। সফরে মোদির সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শীর্ষ বৈঠকের আগে দুদেশের পররাষ্ট্র সচিবরা দলিল বিনিময় করেন।
বর্তমানে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ১১১টি ছিটমহল রয়েছে, এতে রয়েছে ৩৭,০০০ মানুষের বাস। অন্যদিকে ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের বাসিন্দা ১৪,০০০। ২০১১ সালে দু'দেশের যৌথ উদ্যোগে শুমারিতে এই তথ্য পাওয়া যায়।
ভারতের ভেতরে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের আয়তন মোট ৭,১১০ একর; অন্যদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ১১১টি ছিটমহলের আয়তন ১৭,১৬০ একর।
চুক্তি কার্যকর হলে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল (৭,১১০ একর জমি) ভারতের অংশ হয়ে যাবে। আর ভারতের ১১১টি ছিটমহল (১৭,১৬০ একর জমি) বাংলাদেশের অংশ হয়ে যাবে।
এগুলোর মধ্যে লালমনিরহাট জেলায় ৫৯টি, পঞ্চগড় জেলায় ৩৬টি, কুড়িগ্রাম জেলায় ১২টি, নীলফামারী জেলায় ৪টি ভারতীয় ছিটমহল রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী ছিটমহলবাসী তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী নাগরিকত্ব বেছে নিতে পারবেন।
ছিটমহল বিনিময়ের ফলে ভারত যে প্রায় ১০,০০০ একর জমি বেশি হারাবে, সেজন্য কোনো ক্ষতিপূরণ পাবে না বলে প্রটোকলে উল্লেখ রয়েছে।
প্রটোকলের আওতায় অপদখলীয় ভূমি নিয়ে বিরোধের অবসানও ঘটবে। এতে ভারত অপদখলীয় ২,৭৭৭ একর জমির মালিকানা পাবে। আর ২,২৬৭ একর জমির উপর বাংলাদেশের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হবে।
কেএইচ





