দেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯ দশমিক ৪ বছর, যা ২০১১ সালে ছিল ৬৯। এ ক্ষেত্রে পুরুষের গড় আয়ু দাঁড়িয়েছে ৬৮ দশমিক ২ বছর আর মহিলাদের গড় আয়ু হচ্ছে ৭০ দশমিক ৭ বছর। তবে ২০১১ সালে পুরুষের গড় আয়ু ছিল ৬৭ দশমিক ৯ বছর আর মহিলাদের ছিল ৭০ দশমিক ৩ বছর। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মনিটরিং দ্য সিচুয়েশন অব ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস অব বাংলাদেশ (এমএসভিএসবি) এর সর্বশেষ তথ্যে এসব চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন তৈরির বিষয়ে এমএসভিএসবি প্রকল্পের পরিচালক একেএম আশরাফুল হক বলেন, দেশে প্রতি দশ বছর অন্তর অন্তর আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়। ফলে দুটি আদম শুমারির মধ্যবর্তীকালীন বছরভিত্তিক জনসংখ্যা ও জনতাত্ত্বিক সূচকসমূহের পরিবর্তন জানা সম্ভব হয় না। আদমশুমারির বছরসমূহের জনসংখ্যা বৃদ্ধির উপাদানসমূহ ভাইটাল রেজিস্ট্রেশন শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের পরিচালনায় সারাদেশব্যাপী এক হাজারটি নমুনা এলাকায় জন্ম, মত্যু, বিয়ে, তালাক, পৃথক বসবাস, আগমন, বহির্গমন, জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি, প্রতিবন্ধী সংখ্যাসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এমএসভিএসবি প্রকল্পের কার্যক্রম এসভিআরএস নামে ১৯৮০ সাল থেকে শুরু হয়ে ধারাবাহিকভাবে বর্তমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে দেড় হাজারটি পিএসইউ হতে হতে মোট ১১টি তফসিলের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, জনসংখ্যা বৃদ্ধির গড় বার্ষিক হার বর্তমানে এক দশমিক ৩৬ শতাংশ, যা ২০১১ সালে ছিল এক দশমিক ৩৭ শতাংশ।

জন্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার জাতীয় পর্যায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক দুই শতাংশে, যা ২০১১ সালে ছিল ৫৮ দশমিক তিন শতাংশ। পল্লী এলাকায় এ হার হয়েছে ৫৯ দশমিক আট শতাংশ, যা আগে ছিল ৫৬ শতাংশ। শহর এলাকায় এ হার হয়েছে ৬৬ দশমিক এক শতাংশ, যা আগে ছিল ৬২ দশমিক দুই শতাংশ।

নির্ভরশীল জনসংখ্যার হার জাতীয় পর্যায়ে কমে হয়েছে ৫৬ শতাংশ, যা ২০১১ সালে ছিল ৫৭ শতাংশ। অন্যদিকে পল্লী অঞ্চলে ২০১১ সালে সালে ছিল ৬১ শতাংশ যা এখনও একই রয়েছে। তবে শহর অঞ্চলে কমে হয়েছে ৪৮ শতাংশ, যা ২০১১ সালে ছিল ৫১ শতাংশ।

সাত বছর ও তদুর্ধ্ব জনসংখ্যার সাক্ষরতার হার হয়েছে জাতীয় পর্যায়ে ৫৬ দশমিক তিন শতাংশ, যা ছিল ৫৫ দশমিক আট শতাংশ। এ ক্ষেত্রে পুরুষের হয়েছে ৫৯ দশমিক দুই শতাংশ, যা আগে ছিল ৫৮ দশমিক চার শতাংশ আর মহিলার ক্ষেত্রে হয়েছে ৫৩ দশমিক তিন, যা আগে ছিল ৫৩ দশমিক দুই শতাংশ। পল্লী অঞ্চলে মোট সাক্ষরতার হার ৪৯ দশমিক নয়, যা আগে ছিল ৪৯ দশমিক ছয় এবং শহর অঞ্চলে মোট ৬৭ দশমিক চার, যা আগে ছিল ৬৬ দশকি নয় শতাংশ।

পাঁচ বছরের নিচে শিশু মৃত্যুর হারের ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে এ হার দাঁড়িয়েছে ৪২ শতাংশে, যা ২০১১ সালে ছিল ৪৪ শতাংশ। পুরুষ শিশুর মৃত্যু হার পরিবর্তিত হয়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩ শতাংশে, যা আগে ছিল ৪৫ শতাংশ। নারী শিশুর ক্ষেত্রে হয়েছে ৪১ শতাংশ, যা আগে ছিল ৪৩ শতাংশ।

স্থূল প্রতিবন্ধীর হার জাতীয়ভাবে কমে হয়েছে দশ দশমিক দশ শতাংশ, যা আগে ছিল নয় দশমিক ৯৩ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে পুরুষ ১১ দশমিক শূন্য এক শতাংশ, যা আগে ছিল ১১ দশমিক দশ শতাংশ। তবে মহিলা কিছুটা বেড়ে হয়েছে নয় দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ, যা আগে ছিল আট দশমিক ৭৭ শতাংশ।

এএইচ