ঋণের টাকা ও দোকানিদের বাকি-বকেয়া পরিশোধ করতে না পারায় বাড়িঘর সংসার ছেড়ে কাজের সন্ধানে পাড়ি জমিয়েছে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তবর্তী বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার শত শত কৃষকরা।

আমজানজান খোর ইউপি সদস্য মো. লাজিম উদ্দিন জানান, চড়াসুদে ঋণ আর দোকানীদের কাছে সার-কীটনাশক ও ডিজেল বাকী রেখে আলু খেতে হাড়ভাঙ্গা শ্রম দেয় তার এলাকার কৃষকরা।

কিন্তু সেই আশা যেন এখন গুড়ে বালি। লাভতো দুরের কথা উৎপাদন খরচও উঠছেনা। উপজেলার স্কুলের হাট গ্রামের শরিফুল ইসলাম জানান, বিঘা প্রতি তার আলু চাষে খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা। এতে তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে অর্ধেকেরও বেশি।

একই সুরে জানান,জুগিহার গ্রামের আবুল কাশেম। তিনি জানান,তার এলাকার শত শত কৃষক চড়াসুদের ঋনের টাকা ও দোকানীদের বাকী বকেয়ার পরিশোধ করতে না পেরে মহাজনদের চাপে ঘরবাড়ি-সংসার ছেড়ে পালিয়েছে।

এসব ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা কাজের খোঁজে রাজধানীসহ দক্ষিণ অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় পাড়ি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থাণীয় আমজান খোর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো.আকালু। তিনি জানান,তার ইউনিয়নের সাড়ে ৩ হাজারের বেশি কৃষক মহাজনের ভয়ে গ্রাম ছেড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি না থাকায় পরিবার গুলো এখন অসহায় হয়ে পড়েছে। বারসা গ্রামের নুরুফা বেগম জানান,তার স্বামী দোকান দার ও মহাজনের অত্যাচারে কাজের সন্ধানে ঢাকায় গেছে। সেখানে তিনি রিকসা চালাচ্ছেন। মহাজনের টাকা পরিশোধ করা না পর্যন্ত বাড়িতে ফিরবেন না তার স্বামী আব্বাস। একই অবস্থার শিকার ঐ গ্রামের ৫০ টি পরিবার।

আলুর বাজার দর পতনে এমন পরিস্থিতি হয়েছে স্বীকার করে বলছেন উপজেলা নিবার্হী অফিসার আব্দুল মান্নান, স্থাণীয় পদ্ধতিতে আলু সংরক্ষণে চাষিদের প্রশিক্ষণ ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হবে।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কৃষি অফিসার শাফীয়ার রহমান জানান, এবার আলু চাষ হয়েছে ৩ হাজার ৬০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে আগাম জাতের আলুর আবাদ হয়েছে ১৬শ ৫০ হেক্টরে। এখান থেকে আগাম আলু উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩২ হাজার মে.টন ।

সোহেল/এমএনজে