দেশে যে সকল শিশুর বিয়ে ১৬ বছরের নিচে হয়, তার মধ্যে ৫.৭৯শতাংশ বিয়ে প্রেম ঘটিত কারণে বলে জানা যায় মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের গবেষণা প্রতিবেদনে।

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত 'বিবাহ যোগ্য বয়স এবং শিশু বিবাহঃ বর্তমান পরিস্থিতি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনের ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে সংগঠনের সদস্য বনশ্রী এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, শিশু বিয়ের মধ্যে ৬৫ জনের বিয়ে হয় ১৬ বছরের নিছে, ৫.৭৯ শতাংশ বিয়ে হয় প্রেম ঘটিত কারণে, আর মাত্র ১.৫শতাংশ বিয়ে হয় শারিরিক সম্পর্ক বা পালিয়ে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে শিশু বিয়ে অপরাধ হওয়া সত্বেও এখন পর্যন্ত যেসব শিশুর বিয়ে সম্পন্ন হয়, তার মধ্যে শতকরা ৬৫ জন শিশুর বিয়ে হয় ১৬ বছরের নিচে।

গবেষণা এলাকার অধিকাংশ অভিভাবকই মনে করেন, ১৪ থেকে ১৫ বছর মেয়েদের বিয়ে দেয়ার উপযুক্ত সময়।

সংস্থাটি দেশের ২৪টি জেলায় “বিবাহযোগ্য বয়স ও শিশু বিয়ে নিয়ে যে গবেষণা চালিয়েছে তাতে বাল্যবিয়ের বয়স ও কারণ নিয়ে গত এক বছরে এ তথ্য উঠে এসেছে।

তথ্য অনুযায়ী, শিশুবিয়ের গড় বয়স ১৫.৫৩। এমনকি কারো কারো বিয়ে হচ্ছে ১০ বছরের নিচে। শিশুবিয়ের কারণ হিসেবে মেয়েদের নিরাপত্তাহীনতা, দারিদ্রতা এবং সামাজিক রীতিনীতিই প্রধান।

অধিকাংশ অভিভাবক মনে করছেন, সরকার ইতোমধে বিয়ের বয়স ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ করে ফেলেছে। ফলে বাল্যবিয়ের সংখ্যা বাড়ছে।

মূলত, শিশু বিয়ের ধরণ, বিয়ের বয়স নিয়ে অভিভাবকদের ধারণা এবং বিয়ের বয়স কমানোর ব্যাপারে যৌক্তিকতা অনুসন্ধানের জন্য এই গবেষণা চালায় মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন।

মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, আমরা যদি শিশু বিবাহ বন্ধ করতে না পারি, তাহলে সমাজে কন্যা শিশুর প্রতিভা বিকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে। এজন্য আমাদের নারী আন্দোলনের মাধ্যমে সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

তিনি বলেন, নারী অধিকার ও বাল্যবিবাহ বন্ধে সরকার যে নীতি গ্রহণ করেছে, তা থেকে যেন সরে আসে।

যদি নিয়ে থাকে, সেটা হবে আত্মঘাতি। যেটা শিশু অধিকার আইন, সিডও সনদসহ আরো অন্যান্য যে সকল মৌলিক অধিকারের সনদে সরকার স্বাক্ষর করেছে তার সাথে সাংঘর্ষিক হবে।

সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার যেন কিন্তু, তবে এসব অব্যয় বাদ দিয়ে আইনটি প্রণয়ন করেন যাতে দেশীয় এবং আন্তর্জজাতিক আইনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

তিনি, আইন মন্ত্রণালয়ের নতুন খচড়া অনুযায়ী ‘বিয়ের বয়স ১৮-ই থাকছে, মা বাবা চাইলে ১৬’ এ নীতি বন্ধ করে ১৮ এর আগে বিয়ে নয়, নীতি বাস্তবায়ন করার আহবান জানান।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহানাজ হুদা, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, সংস্থার কো-অর্ডিনেটর শাহানা হুদা রঞ্জনা প্রশূখ।

এমএ/এসএইচ