ভারতীয় কয়লা আমদানির সংকটে নোয়াখালীর ৯ উপজেলায় ৯৩ টি জিকজাক ইটের ভাটায় কয়লার সংকটে লাখ লাখ কাঁচা শুকনো ইট পোয়ানোর অপেক্ষায় রয়েছে। এতে বন্ধ হওয়ার আশংকায় রয়েছে অধিকাংশ ইটের ভাটা।

অপরদিকে ইটের সংকটে জেলায় সরকারী ভবন, সড়ক, কালভার্ট, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারী বাসা-ভবন, দোকান নির্মানকাজ থমকে গেছে।

অন্যদিকে কিছু কিছু ইট পোয়ানো হলেও  প্রচলিত বাজার দর থেকে প্রতি হাজার কয়েকশ গুন বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ইট ভাটার মালিকেরা অভিযোগ করেন, ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ইটের ভাটার শ্রমিকদের আগাম দাদন দেয়া হয়। অথচ চাহিদার তুলনায় সরকার অপ্রতুল ভারতীয় কয়লা আমদানি করায় প্রতি ইটের ভাটায় লাখ লাখ কাঁচা শুকনো ইট পোয়ানো যাচ্ছে না।

ইটের ভাটায় ইট পোয়ানো না হলেও শ্রমিকদের প্রতিদিন বিনা কাজে বসিয়ে রেখে হাজার হাজার টাকার খাবার খরচ ও মজুরি দিতে হচ্ছে। শীতকালীন মৌসুমে একটু বৃষ্টি হলেই ইটের ভাটায় পেয়ানোর অপেক্ষায় লাখ লাখ কাঁচা শুকনো ইট ভিজে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সুত্রে জানায়, ওই উপজেলায় ১২৪ টি ইটের ভাটার মধ্যে ৯৩ টি জিকজাক, ইট ভাটা স্থাপন পরিবেশ বিধি লংঘন করে ইট ভাটার মালিকেরা ৩১ টি ইটের ভাটা ২৫-৩০ ফুট উঁচু ড্রামের সিট চিমনি দিয়ে কাঠ পুড়িয়ে ইট তৈরী করে পরিবেশ করছে দূষিত।

জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর সুত্রে জানায়, ইট ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রন-২০১৩ সালের বিধিতে বলা হয়েছে বসত বাড়ি, বাগান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ফসলি জমির ২ কিলোমিটার বাইরে ইটের ভাটা স্থাপন করতে হবে। কোনো ইটের ভাটায় জ্বালানি কাঠও পোয়ানো যাবে না।

জিকজাক ইটের ভাটায় পাকা ইটের ৬০-৭০ ফুট উঁচু চিমনি নির্মান করলে ইট পোয়ানো ধোঁয়া পানির সাথে নষ্ট হয়ে পরিবেশ দূষিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। অথচ জিকজাক ছাড়া অপর ইটের ভাটায় উপকূলীয় সরকারী বন বিভাগের কতেক অসাধূ কর্মকর্তার সাথে যোগসাজশে সিন্ডিকেটেরা বনের কাট কেটে ওই ইট ভাটায় জ্বালানি কাট সরবরাহ করে বন বিভাগ করছে উজাড়। এতে ক্ষতি হচ্ছে উপকূলীয় পরিবেশ।

ক্ষতি করছে সরকারের কোটি টাকার বন বিভাগের সৃজিত গাছ। সুত্রে জানায়, জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের ও জেলা  প্রশাসকের কতেক অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারিকে ম্যানেজ করে ইট ভাটা স্থাপনের পরিবেশ বিধি অমান্য করে বিভিন্ন  উপজেলায় ইট ভাটার মালিকেরা জিকজাক ইট ভাটা না করে ২৫-৩০ ফুট উঁচু ড্রামের সিট চিমনি নির্মান করে ইট পোয়ানো জ্বালানি কাটের ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষিত করায় পাশের বাগানের মূল্যবান কাঠের গাছ, ফলমুল অধিকাংশই মরে যাচ্ছে। বসতবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বসবাস ও পড়ালেখার পরিবেশও বিঘিœত হয়ে বায়ুবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শত শত শিশু ও নারী পুরুষ।

জিকজাক ইটের ভাটার মধ্যে রয়েছে সদরে ৮ টি, সুবর্ণচরে ২ টি, সেনবাগ ৪৬ টি, বেগমগঞ্জ ২৬ টি,কোম্পানিগঞ্জ ৮টি, কবিরহাট ৩ টি,সোনাইমুড়ি ৩ টি ও চাটখিল উপজেলায় ৫ টি সহ ৯৩ টি জিকজাক রয়েছে।

অপরদিকে ড্রাম সিটের চিমনি ৩১ টি ইট ভাটার মধ্যে হাতিয়া ৬ টি, সদর ৩ টি, সুবর্ণচর ৩ টি, কোম্পানিগঞ্জ ২ টি, চাটখিল ২ টি,সেনবাগ ২ টি, কবিরহাট ২টি, সোনাইমুড়ি ২ টি, বেগমগঞ্জ ৩ টি সহ ৩১ টি বাটা রয়েছে।

বেগমগঞ্জ উপজেলার এমভিএমটু ব্রিক ফিল্ডের মালিক মাহবুবুল আলম খোকন জানান, কয়েক কোটি টাকা ব্যাংক থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ইটের ভাটার শ্রমিকদের আগাম দাদন দেয়া হয়েছে।

প্রতি মৌসুমে ইট পোড়াতে আমার ১ হাজার ৫ শ মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন হয়। নামে মাত্র কয়লা এনেছি। অথচ আমার ব্রিকফিল্ডে ৩০ লাখ কাঁচা ইট পোড়ানোর অপেক্ষায় রয়েছে। শীতকালীন বৃষ্টি হলে পানিতে কাঁচা ইট ভিজে ক্ষতি হয়ে অধিকাংশ ইট ভাটার মালিকদের খুঁজে পাওয়া যাবে না।

ইট ভাটা সমিতির জেলা সভাপতি মমিন ব্রিকফিল্ডের মালিক মোঃ ইসমাইল যুগান্তরকে জানান, ভারতীয় কয়লা আমদানির সংকট থাকায় ইটের ভাটায় লাখ লাখ কাঁচা ইট পোয়ানোর অপেক্ষায় রয়েছে। ব্যাংক থেকে কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসা না হলেও প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা ব্যাংকের সুদ গুনতে হচ্ছে।

এদিকে, জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সিনিয়র ক্যামিষ্ট মিজানুর রহমান জানান, ইট বাটার মালিকেরা কয়লা সংগ্রহ করে কাঁচা ইট পোয়ানোর দায়িত্ব তাদের।

এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো দায়িত্ব নেই। তবে, পরিবেশ আইনে ইটের ভাটায় কাট জ্বালানোয় বাধা রয়েছে। এ আইন অমান্য করলে ইট ভাটার মালিকদের জরিমানা ও ভাটা উচ্ছেদ করারও বিধান রয়েছে।

এসএইচ