পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খানকে ওয়াসার পানি দিয়ে তৈরি শরবত পান করাতে হাজির হয়েছে রাজধানীর কয়েকটি এলাকার বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ওয়াসা ভবনের উল্টোদিকের বিএফডিসি ভবনের নিচে প্ল্যাকার্ডসহ ওয়াসার এমডির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন তারা।
কর্মসূচির কথা ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যানে ছড়িয়ে পড়ায় মঙ্গলবার অফিসে আসেননি ওয়াসার এমডি, ডিএমডিসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বেলা ১২টা পর্যন্ত তাদের কাউকেই অফিসে প্রবেশ করতে দেখা যায়নি।
ওয়াসার এমডিকে শরবত পান করাতে যাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন মিজানুর রহমান, তার স্ত্রী শামীম হাশেম খুকি ও তাদের মেয়ে। এছাড়া একই এলাকা থেকে এসেছেন মতিয়ার রহমান। এছাড়া পুর্ব রামপুরা থেকে এসেছেন মনিরুল ইসলাম।
ওয়াসা ভবনের উল্টোদিকে এসেই তারা ওয়াসার পানি দিয়ে শরবত তৈরি করেন। লেবু-চিনির সেই শরবতই ওয়াসার এমডিকে পান করাতে চান তারা।
মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমার এলাকায় ওয়াসার লাইন দিয়ে নর্দমার পানি আসে। দুর্গন্ধযুক্ত সেই পানি পান করা যায় না। অথচ ওয়াসার এমডি বলেন, বিশুদ্ধ। তাই উনার বিশুদ্ধ পানি দিয়ে উনাকে শরবত খাওয়াতে চাই।’
ওয়াসার এমডির কাছে কৈফিয়ত চাইতে এসেছেন জানিয়ে মিজানুর রহমান বলেন, ‘উনি যে বললেন সব পানি সুপেয়, এই কারণে আমি আমার এলাকা থেকে উনার সরবরাহ করা পানি নিয়ে এসেছি উনাকে খাওয়ানোর জন্য। উনি খেলেই বুঝতে পারবেন যে কী পানি সরবরাহ করছেন। তিনি সুপেয় পানির যে দাবি করেছেন তা আসলে সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার এলাকা জুরাইনে ৪০ বছর আগে ওয়াসার পাইপ লাইন বসানো হয়েছে। প্রথম ১০ বছর আমরা ভালো পানি পেয়েছি। এরপর থেকে ভালো পানি পাচ্ছি না। যা পানি পাই তা স্যুয়ারেজের পানির মতো। এই পানি খাওয়া যায়না এমনকি গোসল করার জন্যও ব্যবহার করা যায় না। এর বিকল্প হিসেবে এলাকার বেশ কয়েকটি মসজিদে গভীর নলকূপ বসানো হয়েছে। এলাকার মানুষ টাকার বিনিময়ে ওই নলকূপ থেকে পানি সরবরাহ করে দৈনন্দিন কাজ সারেন।’
জেড





