কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বেনাপোলের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বৈধ ও অবৈধ উভয়পথেই ভারত থেকে গরু আসা শুরু হয়েছে।

অবৈধপথে বা চোরাচালানের মাধ্যমে কী পরিমাণ গরু আসছে তার হিসাব কারো কাছে না থাকলেও বৈধ পথের একটি হিসাব রয়েছে কাস্টম ও ভ্যাট অফিসে।

সেই হিসেবে গত ঈদের ২০১৬ সালের জুলাই-আগস্ট দুই মাসের তুলনায় ২০১৭ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ৬ হাজার ১৫৬ টি গরু কম এসেছে ভারত থেকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যশোরের পশ্চিম প্রান্ত জুড়ে ভারত সীমান্ত। সীমান্তের বেশিরভাগ স্থান জুড়ে কাঁটাতারের বেড়া। তবে যেসব স্থানে বেড়া দেয়া নেই সেই পথে অনায়াসে গরু আসে। আর যে পথে কাঁটাতারের বেড়া সেখানে নেয়া হয় ভিন্ন কৌশল। গরু-ছাগল মাঠে চড়ানোর নাম করে সরাসরি গেট দিয়েই পার করে দেয়া হয়।

অন্যদিকে বৈধ পথে গরু, ছাগল ও ভেড়া আনার জন্য বেনাপোলে কয়েকটি খাটালের অনুমোদন দিয়েছে স্বরাষ্টমন্ত্রণালয়। তবে পুটখালী, অগ্রভুলট, দৌলতপুর ও গোগা এই চারটি খাটালে বর্তমানে সীমিত গরু আসছে। গত ৪/৫ বছর আগে পুটখালীসহ এসব খাটাল হয়ে প্রতিদিন ৩/৪ হাজার গরু আসতো।

বিজিবি ও যশোরের নাভারণস্থ পশু শুল্ক করিডোর সূত্র জানান, ২০১৬ সালের জুলাই মাসে ১০,২৮৭ টি গরুর বিপরীতে ৫১ লাখ ৪২ হাজার টাকা ও আগস্ট মাসে ৭ হাজার ৭৫৮ টি গরুর বিপরীতে ৩৮ লাখ ৭৯ হাজার টাকার রাজস্ব আয় হয়েছে।

একই সময়ে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে ৬ হাজার ৪৫৮ টি গরুর বিপরীতে ৩০ লাখ ৬৩ হাজার টাকা ও আগস্ট মাসের ১৮ তারিখ পর্যন্ত ৫ হাজার ৪৩১ টি গরুর বিপরীতে ২৬ লাখ ২৯০ লাখ টাকার রাজস্ব আয় হয়েছে সরকারের।

নাভারণ কাস্টমস গরু করিডোরের অফিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা কাস্টমস পরিদর্শক সুমা মনি পাল জানিয়েছেন, বেনাপোল সীমান্তের চারটি পশুহাট পুটখালী, অগ্রভুলট, দৌলতপুর ও গোগা দিয়ে যে পশু আসে নাভারণ করিডোরে এর ভ্যাট আদায় করা হয়।

হিসাব করে দেখা গেছে, গড়ে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০টি গরু আসছে। ঈদ সামনে রেখে এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে গরুর বাজার মূল্য তুলনামুলক বেশী বলে গরু ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন জানান।

২১ বিজিবির কমান্ডিং অফিসার তারিকুল হাকিম জানান, সীমান্ত টপকে অবৈধভাবে কোন বাংলাদেশী রাখালকে ভারতে যেতে দেয়া হচ্ছে না।

তারা সীমান্তের শুন্য লাইনে গিয়ে ভারতীয় রাখালদের কাছ থেকে গরু নিয়ে আসছে। ফলে গত ২ মাসে এই সীমান্তে হত্যাকাণ্ড শুন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।

নাসির/জেড