সিরাজগঞ্জে জামায়াত-শিবিরকর্মীদের গ্রেফতারের নামে সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার মিনা খাতুনের বাড়িতে তাণ্ডব চালিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে পুলিশ তাকে মারপিটসহ অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও বাসার আসবাবপত্র তছনছ করেছে। বাড়ির শিশু ও অন্য সদস্যরা ভয়ে চিৎকার শুরু করলে পুরো গ্রামে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল ইসলামের নেতৃত্বে খোকশাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মিনা খাতুনের বাসায় এ তাণ্ডব চালানো হয়।
আমাদের সংবাদদাতা প্রত্যক্ষ দর্শিদের বরাদ দিয়ে জানান, পুলিশের এ আচরণ মেনে নিতে পারছে না এলাকাবাসী। এতে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ওই এলাকায়। বিশেষ করে মহিলা জনপ্রতিনিধিকে মারপিট ও ভাঙচুর মেনে নিতে পারছে না কেউই।
তবে ওসির দাবি খোকবাড়ি এলাকায় জামায়াত-শিবির ও বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা আজ হরতালের সমর্থনে বুধবার রাতে সিরাজগঞ্জ-কাজিপুর আঞ্চলিক সড়কের খোকশাবাড়ি এলাকায় বিআরটিসি বাসে হামলা চালায় হরতাল সমর্থনকারীরা।
গ্রামবাসী সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ বিএনপি, জামায়াত-শিবির কর্মীদের গ্রেপ্তার করতে খোকশাবাড়ি উত্তরপাড়া, পুরান শৈলাবাড়িসহ আশপাশ এলাকার কয়েকটি বাড়িতে অভিযান চালায়। এসময় মহিলা মেম্বর মিনা খাতুন তার বাসায় তল্লাশির কারণ জানতে চাইলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে পুলিশ। এসময় পুলিশ মিনাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। পরে তার বাসার একটি কক্ষে ঢুকে যাবতীয় আসবাবপত্র তছনছ করে ভাঙচুর চালায়। এ সময় বাসার শিশু ও নারীরা ভয়ে ডাক-চিৎকার করলে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ বিএনপি জামায়াতের কাউকে আটক করতে না পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে মিনা বেগমকে মারধর করে।
একই সময় পুলিশ এলাকার এসএসসি পরীক্ষার্থী শিবিরকর্মী সাদেক হোসেনের বাবা আব্দুল ওয়াদুদ, রাসেলের বাবা আব্দুস সামাদ ও সুরুজ্জামানের বাবা বেল্লাল হোসেনের বাসায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
ক্ষতিগ্রস্ত ইউপি সদস্য মিনা খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, ‘বেলা পৌনে ১০টার দিকে ওসি হাবিবুলের নেতৃত্বে ৪৬ জর ফোর্স আমার বাড়িতে হানা দেয়। তারা ভেতরে ঢুকে আমার ছেলে মাসুদকে ডাকাডাকি করে। তারা মাসুদকে না পেয়ে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালি করে। পরে ঘরের ভেতরে ঢুকে হাড়ি পাতিল গ্লাস আলমিরা শোকেজ ট্রাংকসহ দামি আসবাবপত্রগুলো ভেঙে ফেলে।
ভাঙচুর চালানোর পর সাদেকের মা সুফিয়া খাতুনকেও লাঠিপেটা করে। এরপর তাকে নিয়েই অপর শিবিরকর্মী রাসেলের বাড়িতে যায় পুলিশ। সেখানে গিয়েও একই ঘটায় তারা।
ওসি হাবিবুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘সকালে খোকবাড়ি এলাকায় জামায়াত-শিবির ও বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে।’
এদিকে, বিনা কারণে পুলিশি তাণ্ডবের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শাহীনুর আলম ও সেক্রেটারি অধ্যাপক মো. জাহিদুল ইসলাম।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পুলিশ এখন আওয়ামী লীগের পেটুয়া বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। তাদের হাত থেকে দলীয় নেতাকর্মী তো দূরের কথা মহিলা জনপ্রতিনিধিরাও বাদ যাচ্ছে না।
বিবৃতিতে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষী পুলিশ সদস্যদের শাস্তি দাবি করা হয়েছে।
একে





