শিশু আরজিনা অপহরণ ঘটনার ১৭ দিন পর অবশেষে এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীসহ ৩ জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ।

অভিযোগ উঠেছে, ধরনীবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান অপহরণকারীদের রক্ষা করতে শিশুটিকে উদ্ধারের পর থানায় না গিয়ে ও অপহরণকারীদের নাম গোপন করে ১ দিন পর পরিবারের হাতে তুলে দেন। পিতার অভিযোগ, অপহরণকারী আয়শা চক্র তার ভাই পুলিশ কর্মকর্তার অসুস্থ ছেলের কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্যই তার মেয়েকে অপহরণ করেছিল।

জানা গেছে, নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলি ইউনিয়নের হাজিপাড়া গ্রামের দরিদ্র আক্কাছ আলী ও মরিয়ুম বেগমের কন্যা আরজিনা (৭)কে কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার ধরনীবাড়ী ইউনিয়নের রুপার খামার গ্রামে শিশুটির নানা মমিজউদ্দিনের বাড়িতে রেখে তারা উভয়ে ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করেন। শিশুটি নানার বাড়িতে থেকে রুপার খামার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। গত ৬ই আগস্ট সন্ধ্যার দিকে তার নানী প্রতিবেশী বিবিজান নামের নানীকে ডাকতে পাঠান। এরপর শিশুটিকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এ ব্যাপারে পরদিন ৭ই আগস্ট শিশুটির নানা মমিজউদ্দিন উলিপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এদিকে শিশু উদ্ধারের ৬ দিন পরও ওই চেয়ারম্যান অপহরণ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নেয়ায় তার ভূমিকা নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ উঠেছে, অপহরণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের রক্ষা করতে চেয়ারম্যান পুলিশের ওই এসআই আবু বক্করের সঙ্গে মোটা অঙ্কের অর্থের লেনদেন করায় রহস্যজনক নীরবতা পালন করেন। তবে শিশু আরজিনা অপহরণকারীদের নাম পরিবারের কাছে ফাঁস করে। এ পরিস্থিতিতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও আরজিনার পরিবারের লোকজন গত মঙ্গলবার উলিপুর থানায় মামলার জন্য যায়।

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসকে আব্দুল্লা আল সাইদ বলেন, ‘এ ঘটনায় অপহরণ মামলা হয়েছে।অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

এএইচ