চট্টগ্রামে র্যাবের অভিযানে আটক সন্দেহভাজন জঙ্গি নূরে আলমকে (২২) নিজের ছেলে বলে দাবি করেছেন নীলফামারী শহরের উকিলের মোড় এলাকার বাসিন্দা নূর নাহার বেগম। তাঁর দাবি, গত ১১ এপ্রিল রাতে প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে নূরে আলমকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় কয়েকজন ব্যক্তি।
আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের আকবর শাহ থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হুজি-বির সন্দেহভাজন পাঁচ সদস্যকে আটক করেছে র্যাব। তাঁদের কাছ থেকে অস্ত্র, গুলি, হাত গ্রেনেড ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানানো হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা হলেন তাজুল ইসলাম, নাজিম উদ্দিন, আবুজার গিফারি, নূরে আলম ও ইফতিশাম আহমেদ।
নূরে আলমের মা নূর নাহার বেগমের দাবি, টেলিভিশনে নূরে আলমের ছবি দেখে তিনি নিশ্চিত হন এ নূরে আলমই তাঁর ছেলে। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে নূরে আলম নীলফামারী সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। ওর বাবা আবদুল কাদের মারা গেছেন। বাসার সামনে আমাদের একটা মোবাইল ফ্ল্যাক্সি লোড, বিকাশ ও ইলেকট্রনিকসের দোকান আছে, সেটা সে চালাত। ১১ এপ্রিল রাত দেড় থেকে দুইটার দিকে যারা আমার ছেলেকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে নিয়ে গেছে, তাদের পরনে জিনসের প্যান্ট, গেঞ্জি-শার্ট ছিল। আমি তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা আমাকে ধমক দিয়ে বলেন, আমরা প্রশাসনের লোক, ওকে নিয়ে যাচ্ছি ২০ মিনিট পর রেখে যাব। এ ঘটনায় আমি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি, মামলা করেছি, সংবাদ সম্মেলনও করেছি।’
নূরে আলমের ছোট ভাই নয়ন ইসলাম তাঁর মোবাইলে টেলিভিশনে প্রচারিত নূরে আলমের ছবি দেখিয়ে তাঁর ভাই বলে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, নিখোঁজের পর থেকে তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে পরিবারের কারও কোনো যোগাযোগ হয়নি। তিনি বলেন, ১১ এপ্রিল দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তিনটি মাইক্রোবাস ও একটি মোটরসাইকেলে প্রায় ৪০ জন লোক আসে। তারা নিজেদের প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে নূরে আলমকে তুলে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবুল আকতার বলেন, নূরে আলম নিখোঁজের পর তাঁর পরিবার মামলা করেছিল। সেই মামলার তদন্ত চলছে।
সূত্র: প্রথমআলো
জারিফ





