বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেছেন, ‘হেফাজতের সঙ্গে আপোষ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী। হেফাজতের সঙ্গে আপস করে কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না। বরং সংকট আরও গভীরে নিয়ে যাবে।’

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি হেফাজতের সঙ্গে আপোষ মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার বিকেলে ‘জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, সাম্রাজ্যবাদ, ঘুষ-দুর্নীতি, বৈষম্য-রুখে দাঁড়াও, সমাজ বদলের রাজনীতি এগিয়ে নাও’ স্লোগানে ওয়ার্কার্স পার্টি রাজশাহী জেলা ও মহানগর শাখা আয়োজিত সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে এক জনসভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাদশা বলেন, ‘সংবিধানের বাইরে কিছু করা যাবে না। যদি করা হয়, তাহলে মানা হবে না। ওইটাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। সংবিধানে মধ্যে ৩০ লাখ শহীদ আছে, মুক্তিযুদ্ধ আছে।’

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের শক্তি এখন ক্ষমতায়। আমরা জামায়াত ও হেফাজতের জন্য কোনো সুবিধা দেখতে চাই না। আমরা সাম্প্রদায়িকতা মানি না। আমরা মনে করি, ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার।

তিনি বলেন, ‘এখন জাতির মধ্যে নতুন এক বির্তক শুরু হয়েছে। ভাস্কর্য আর মূর্তি নিয়ে বিতর্ক। ভাস্কর্য হলে ভাঙা যাবে না আর মূর্তি হলেই ভাঙা যাবে? তাহলে বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনার কী হবে? যারা মূর্তি পূজা করে তারা কি এই দেশে আর পূজা করতে পারবে না?’

বাদশা বলেন, ‘আপনি মন্ত্রী হোন আর যেই হোন না কেন, যারা এ নিয়ে বির্তক করছেন তারা রাজাকারদের হাতকেই শক্তিশালী করছেন।’

তিনি বলেন, ‘অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধূলিসাৎ করতে পাঠ্যবইয়ে সংশোধনী আনা হচ্ছে, কওমী মাদ্রাসাকে স্বীকৃতি দেয়া হচ্ছে। এ ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’

রাকসুর এই সাবেক ভিপি বলেন, ‘ওয়ার্কার্স পার্টি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বুকে ধারণ করে এদেশের খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের শোষণমুক্তির সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। এ থেকে কেউ আমাদের এক চুল পর্যন্ত সরাতে পারবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি যখন জাতীয় সংসদে উঠি তখন রাজশাহীর কথা বলি। সরকার রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধের জন্য ২৬৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এখন উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে। দেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। তবে রাজশাহী যেন কোনোভাবে বৈষম্যের শিকার না হয়।’ বক্তব্যে রেশম কারখানা চালুর দাবি করেন তিনি।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য নূর আহমদ বকুল, পলিটব্যুরো সদস্য মুস্তফা লুৎফুল্লাহ এমপি, ইয়াসিন আলী এমপি, পাটির কেন্দ্রীয় সদস্য ও রাজশাহী জেলার সভাপতি রফিকুল ইসলাম পিয়ারুল।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ওয়ার্কার্স পার্টি রাজশাহী জেলার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আশরাফুল হক তোতা, মহানগর সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট এন্তাজুল হক বাবু, সাদরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আবু সাঈদ, আবদুর রাজ্জাক প্রমুখ।

জনসভা পরিচালনা করেন ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী মহানগর সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ প্রামনিক দেবু।

এমএনজে