পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় (সন্তু) লারমা সরকারকে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে যদি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে ১ মে থেকে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর সুন্দরবন হোটেলে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ১৭তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এক আলোচনাসভায় সভাপতিত্বের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সরকার যদি আন্তরিক না হয়, তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ে আগুন জ্বলবে। এ আন্দোলন কথার কথা নয়, এ আন্দোলন অধিকার আদায়ের আন্দোলন। প্রয়োজনের জুম্মজনগণ জীবন দেবে। জীবন দিতে প্রস্তুত তারা।
সন্তু লারমা বলেন, সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে স্বাক্ষরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির দীর্ঘ ১৭ বছর অতিক্রান্ত হতে চলছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যাকে রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
এই চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্যে দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি-স্থিতিশীলতা ফিরে আসার স্বপ্ন দেখছিল পার্বত্যবাসী। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের পর ১৭ বছরেও তা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ায় পার্বত্যবাসীর সেই শাসনতান্ত্রিক অংশীদারিত্ব যেমনি নিশ্চিত হয়নি, তেমনি অর্জিত হয়নি পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধান।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে সরকার চুক্তির অবাস্তবায়িত মৌলিক বিষয়সমূহ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াকে অনিশ্চিয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। সরকারের আলামত দেখে এটা স্পষ্ট বলা যায়, চুক্তি বাস্তবায়নের আর কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে না। দেশ-বিদেশের জনমতকে বিভ্রান্ত করার জন্য বড়জোর বুলিতে চুক্তি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, জনসংহতি সমিতির অস্ত্র কেড়ে নিতেই চুক্তি বাস্তবায়নের অভিনয় করা হচ্ছে। অভিনয় করে দাবি থেকে তাদের সরানো যাবে না। তাদের দাবি মানতে হবেই।
সভায় বিশিষ্ট গবেষক, কবি ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, জনসংহতি সমিতি ৩০ এপ্রিলের মধ্যে চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আলটিমেটাম দিয়েছে। তার আগে ২৬ মার্চের মধ্যে চুক্তি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে, তার দায় সরকারকে নিতে হবে।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মনজুরুল আহসান খান বলেন, শান্তি চুক্তির পরও এমন কোনো দিন নেই, যেদিন পাহাড়িদের হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয় না। ১৭ বছর পরও সরকার শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে তালবাহনা করছে। অবিলম্বে চুক্তি বাস্তবায়ন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট গবেষক, কবি ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির উপদেষ্টা মনজুরুল আহসান খান, ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পংকজ ভট্টাচার্য, জনসংহতি সমিতির সহ-সভাপতি ঊষাতন তালুকদার এমপি, হাজেরা সুলতানা এমপি, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, সঞ্জীব দ্রং, রোবায়েত ফেরদৌস প্রমুখ।
এসএইচ





