দুদকের মামলায় জামিন জালিয়াতির ঘটনায় কানুনগো মোহাম্মদ আলীসহ ৪ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
আজ বুধবার বিকেলে প্রশাসকের নির্দেশে দুদকের মামলার আসামি ডিএসসিসির কানুনগো মোহাম্মদ আলী, সার্ভেয়ার আলী আহম্মেদ, সাভেয়ার মো. বাচ্চু মিয়া ও সাবেক সম্পত্তি কর্মকর্তা বর্তমানে সহকারি বাস টার্মিনাল ম্যানেজার মহসিন উদ্দিন মোড়লকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
জানা যায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. জহিরুল হকের আদালতে জামিনের জন্য আসামি কানুনগো মোহাম্মদ আলীর পক্ষে ডিএসসিসির সার্ভেয়ার আলী আহম্মেদ দাড়ান, একই সঙ্গে আসামি সাভেয়ার মো. বাচ্চু মিয়া ও সাবেক সম্পত্তি কর্মকর্তা মহসিন উদ্দিন মোড়লও আদালতে দাড়ান।
কিন্তু আদালত কানুনগোর মোহাম্মদ আলীর জালিয়াতির এ বিষয়টি টেরপেয়ে উপস্থিত সবাইকে আটকে দেন। ওই সময় আদালতের সামনে ওৎপেতে থাকা জালিয়াত কানুনগো মোহাম্মদ আলীকে কর্মরত পুলিশ ধরে ফেলে।
ওই দিনই এ ৪ আসামি ঢাকা কেন্দ্রিয় কারাগারে পাঠিয়ে দেয় আদালত।
গত ২৪ আগস্ট শাহবাগ থানায় দুদকের সহকারি পরিচালক মুহা.মাহবুবুল আলম বাদী হয়ে দন্ডবিধি ৪২০/ ৪৬৬/ ৪৬৮/১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নং-৩১।
গুলিস্তানের ঢাকা ট্রেড সেন্টার মার্কেটে জালিয়াতির, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির মাধ্যমে ৪৯৩টি অস্থায়ী দোকান বরাদ্দের অভিযোগে ডিসিসি’র সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা, সাবেক প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) মো. মশিয়ার রহমান এবং কানুনগো মোহাম্মদ আলীসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।
মামলার অপর আসামিরা হলেন; ঢাকা দক্ষিণ সিটির সার্ভেয়ার মোতালেব হোসেন, সার্ভেয়ার মো. ফারুক হোসেন, সার্ভেয়ার মো. বাচ্চু মিয়া, সাবেক সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. সাহাবুদ্দিন সাবু, সাবেক সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. মহসিন উদ্দিন মোড়ল।
আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তারা ঢাকা ট্রেড সেন্টার মার্কেটের ১ম,২য় ,৩য় ও ৪র্থ তলায় খালি জায়গা, গাড়ি পাকিংইয়ের জায়গায় নিজ খরচে ১৫ টাকা বর্র্গফুট মূল্য নির্ধারণ করে কয়েক শত অস্থায়ী দোকান বরাদ্দ দেন। যা আইনগত কোনো ভিত্তি নেই। আর এঅবৈধ প্রক্রিয়ায় কয়েক শত দোকান বরাদ্দের মাধমে আসামিরা পরস্পর লাভবান হয়েছেন এবং দোকান বরাদ্দ প্রাপ্তাদেরও লাভবান করিয়েছেন।
জানা যায়, ২০০৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি বিভাগের (এস্টেট-২৫২৫) দোকান বরাদ্দের ফাইলে আবেদন পাল্টানো, স্বাক্ষর জাল, নোটশিট পরিবর্তনসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে ২০১২ সালে থেকে অনুসন্ধান শুরু হয়ে ২০১৪ সালে এসে শেষ হয়।
এদিকে ডিএসসিরি অঞ্চল -৩ এর কর কর্মকর্তা আরোক জালিয়াত মো. আবুল খাযেরকে প্রত্যাহারের পর এখন বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি নিয়েছেন কর্র্তপক্ষ। কিন্তু কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তকে বাধা গ্রস্ত করার জন্য আবুল খায়ের প্রশাসক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকতাদের উপর রাজনৈতিক চাপ সুষ্টি করছেন।
শুধু তাই নয়, তাকে ওই পদে পুনরায় পদায়নের জন্য শুরু করেছেন না তদবির। এমনকি অনেকেই নানা ভয়ভীতিও দেখাচ্ছেন এ দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা আবুল খায়ের।
তার বিরুদ্ধে অনেক আগ থেকেই জালিয়াতি,ঘুষ কেলংকারি, দুর্নীতি এবং লোকজনের সঙ্গে অসদাচারনের অভিযোগ রয়েছে বলে জানান প্রশাসকের দফতরের কর্মকর্তারা।
একে/এসএইচ





