রাজধানীর আশুলিয়ায় ব্যাংক ডাকাতি নিছক ডাকতি নয়, এটা জঙ্গিদের কাজ। তারা দেশে আবারো অরাজকতা চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল বলে জানান ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এস এম মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১২টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আশুলিয়া ব্যাংক ডাকাতি ঘটনায় দু'জনকে আটকের ঘটনায় সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এস এম মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান এসকল কথা বলেন।

তিনি বলেন, ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায় থেকে আমরা যা বুঝতে পারলাম এটা কোন ডাকাতির উদ্দেশ্য ঘটেনি এটা জঙ্গিদের কাজ। কারণ ডাকাতরা কোথাও ডাকাতি করতে গেলে তাদের টাকা পয়সার প্রতি লোভ থাকে, তারা কাউকে সহজে খুন করে না। তার নিজেদের সেভ করে পলিয়ে যায়। কিন্তু এই ডাকাতি সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যপার এই ডাকাতরা টাকার দিকে চোখ না দিয়ে শুধু খুনই করেছে।

ডিআইজি আরো বলেন, জঙ্গিরা আবারো সারাদেশে মাথা চারা দিয়ে উঠতে চাইছিল। আবারো তাদের ধ্বংসজজ্ঞ চালিয়ে জানান দিতে চাইছিল।

আটককৃতদের ব্যপারে নুরুজ্জামান বলেন, এরা দু'জনেই আগে শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলো। এখন তারা প্রশিক্ষিত জঙ্গির সদস্য।

আশুলিয়ার ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে আশুলিয়ার কলমা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত গ্রেনেড তৈরীর সরঞ্জাম, বোমা তৈরীর কাজে ব্যবহৃত ১টি মেশিন, বোমা তৈরীর তার ও সরঞ্জামাদি, গান পাউডার, ১টি ওমেগা ওয়েট মেশিন (যার দ্বারা বোমা তৈরীর সরঞ্জামাদি মাপা হয়), বোমা তৈরীর স্প্রিন্টার, ৪টি চাপাতি, ৮টি ড্যাগার, পিস্তলের ম্যাগজিন ১টি, ২টি মোটর সাইকেল, জিহাদী বই ও লিফলেটসহ বাবুল সরদার(২৯) ও মিন্টু প্রধান(২৮) নামের দু'জনকে আটক করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা জেলা এসপি হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিস সুপার আশরাফুল আজিমসহ পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য,গত ২১ এপ্রিল দুপুরে ডাকাতদের গুলিতে আশুলিয়া কমার্স ব্যাংকের ম্যানেজারসহ ৭ জনের প্রান হারায়।

এঘটনায় ব্যাংকের কর্মকর্তা ফরিদুল হাসান বাদি হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলা করেন।

এআই/ এআর