নওগাঁর রাণীনগরে বুদ্ধি ও বাকপ্রতিবন্ধী এক যুবতিকে ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের ১৮ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো ধর্ষককে গ্রেফতার করতে পারেনি থানা পুলিশ। ফলে সুষ্ঠু বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় পরেছেন পরিবারটি।
জানা গেছে, রাণীনগর উপজেলার আতাইকুলা পালপাড়া গ্রামের মৃত দুলাল চন্দ্রের ছেলে গোবিন্দ চন্দ্র পাল ওরফে সুটকা পাল (৬০) গত ১০ এপ্রিল (বুধবার) সকাল অনুমান সাড়ে ৯ টায় একই গ্রামের একই সম্প্রদায়ের জনৈক ব্যক্তির বুদ্ধি ও বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ে (২৩) কে বিস্কুট খাওয়ানোর কথা বলে কৌশলে গোবিন্দ চন্দ্র ওরফে সুটকা পাল তার বাড়ীতে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তাকে ধর্ষণ করে ছেরে দিলে প্রতিবন্ধী যুবতি বাড়িতে এসে কিছুটা ইশারা ইঙ্গিতে তাকে ধর্ষণের কথা এবং প্রচন্ড ব্যথা অনুভবের কথা বলে। বিষয়টি ধীরে ধীরে জানাজানি হয়। এরপর থেকে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায় স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে প্রবাভশালী কিছু ব্যক্তি সামাধানকারীরা কৌশলে ধর্ষককে পালিয়ে দেয়। এ ঘটনায় ওই প্রতিবন্ধীর বাবা বাদী হয়ে গত ১২ এপ্রিল (শুক্রবার) গোবিন্দ চন্দ্র পাল ওরফে সুটকা পালকে আসামি করে রাণীনগর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার দিনই দুপুরে যুবতিকে মেডিকেল চেকআপ সম্পন্ন করা হয়। মামলার ১৮ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত মামলার আসামি ধর্ষককে গ্রেফতার করতে পারেনি রাণীনগর থানা পুলিশ। ফলে সুষ্ঠু বিচার পাওয়া নিয়ে পরিবারের লোকজন শঙ্কায় পরেছেন।
এ ব্যাপারে প্রতিবন্ধীর মা বলেন, মামলার আসামি ধর্ষক গোবিন্দ চন্দ্র পাল ওরফে সুটকা পাল এখনো গ্রেফতার হয়নি। পুলিশ আমাদেরকে সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। তবে এত দিনেও আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় সুষ্ঠু বিচার পাওয়া নিয়ে হতাশা ও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সেলিম জানান, ধর্ষক পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএসএম সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আসামি পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না। আসামি দেশের যে প্রান্তেই থাকনা কেন সন্ধান পাওয়া মাত্রই তাকে গ্রেফতার করা হবে। এছাড়া সুষ্ঠু বিচারে যতটুকু আইনি সহায়তা প্রয়োজন তা করা হবে।
আওরঙ্গজেব/এমবি





