ঢাকা উত্তর (ডিএনসিসি) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২০১৪- ১৫ অর্থ বছরের বাজেটে হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ছে। এ বিষয়ে দুই সিটির কর্মকর্তারা নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন। টানা ২৫ বছর যাবৎ রাজধানীতে হোল্ডিং ট্যাক্স না বাড়ানোর কারণে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্র মতে, অর্থাভাবে নগরীর কাঙ্খিত মানের উন্নয়ন এবং নগরবাসীর সেবামূলক কার্যক্রম থেমে যাচ্ছে। ঢাকা উত্তর সিটি আর্থিকভাবে কিছুটা শক্তিশালী হলেও দক্ষিণ সিটি অনেক দুর্বল। তারা বেতনের টাকাই যোগার করতে পারে না। এছাড়া ঠিকাদারদের প্রায় ২৫০ কোটি টাকার বিল বকেয়া পড়েছে। উন্নয়নমূলক কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে, আগামী ৮ জুলাই মঙ্গলবার বিকালে (ডিএনসিসি) প্রশাসন ২০১৪- ১৫ অর্থ বছরের প্রায় ২৪০০ কোটি টাকার বাজেট তৈরি করেছে। এই বাজেটের ৭০ শতাংশ অর্থ নিজস্ব আয় থেকে ব্যায়ের টার্গেট নিয়েছে। বলতে গেলে অনেকটাই স্বয়ং সম্পূর্ণ। তাদের নিজস্ব আয়ের উপর ভিত্তি করেই এ খসড়া বাজেট তৈরি করা হয়েছে। তবে গত অর্থ বছরের বাজেট ছিল ১৯৮৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকার।
মঙ্গলবার রাজধানীর উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরে উত্তরা কমিউনিটি সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ডিএনসিসির প্রশাসক ফারুক জলিল এ বাজেট ঘোষণ করবেন। বাজেট অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম এনামুল হক, সচিব আবু সাইদ শেখ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মমতাজ উদ্দিন, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপটেন বি কে সাহা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মাসুদ আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী এবং ডিএনসিসির বিভাগীয় প্রধান ও আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা।
এবার বাজেটে ডিএনসিসির নিজস্ব উৎস থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১৬০০ কোটি টাকা। আর সরকারি ও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প থেকে পাবার টার্গেট নির্ধারণ করেছে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা।
নিজস্ব আয়ের খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম হোল্ডিং ট্যাক্স থেকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা, বাজার সালামী ও ভাড়া খাত থেকে ৩০০ কোটি টাকা, ট্রেড লাইসেন্স খাত থেকে ৪০ কোটি টাকা, বিজ্ঞাপন খাত থেকে ১০ কোটি টাকা, বাস ট্রাক ট্রার্মিনাল থেকে ৮ কোটি টাকা, পশুর হাট ইজারা থেকে ১৫ কোটি টাকা, রাস্তা খনন ফি থেকে ৫০ কোটি টাকা, সম্পত্তি হস্তান্তর খাত থেকে ৩০০ কোটি টাকা, রাজধানীতে চলাচলরত যানবাহ (অট্রয় খাত) থেকে ১৫০ কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে আরও কয়েকশত কোটি টাকা আদায়ের টার্গেট রয়েছে।
বাজেটে উন্নয়মূলক খাতে সম্ভাব্য ব্যায় প্রায় ১৮০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে নগরীর পরিচ্ছন্নতা, রাস্তার বাতি , বিদ্যুৎ ,পানি ও মশক নিধণ, যন্ত্রপাতি ক্রয়সহ সেবামূলক কার্যক্রম, সড়ক ও ট্রাফিক অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ এবং উন্নয়নে বাজেটের অর্থ ব্যয় করা হবে। এছাড়া রায়ের বাজার সৃতিসৌদ্ধ সংলগ্ন এলাকায় নতুন কবরস্থান নির্মাণ প্রকল্পটি সেনাবাহিনী বাস্তবায়ন করছে। ডিএনসিসির আঞ্চলিক কার্যালয় নির্মাণ, বাজার নির্মাণ অবকাঠানোসহ ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণা বেক্ষণে এ অর্থ ব্যায় করা হবে।
অপরদিকে ডিএসসিসি ২০১৪- ১৫ অর্থ বছরের প্রায় সাড়ে ১৫০০ কোটি টাকার খসড়া বাজেট তৈরি করেছে। এ বাজেটে নিজস্ব উৎস থেকে সম্ভাব্য আয়ের টার্গেট প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। যা বাজেটের ৪৫ শার্তাংশ হবে। আর বাকি অর্থ সরকারি ও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প থেকে পাবার টার্গেট নির্ধারণ করেছে।
আগামী ১০ জুলাই বিকালে ফুলবাড়িয়াস্থ নগর ভবন অডিটরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসির প্রশাসক ইব্রাহিম হোসেন খান এ বাজেট ঘোষণা করবেন। এ বাজেট অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনছার আলী খান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মোস্তফা কামাল, প্রধান প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হারুন অর রশিদ,প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাসহ বিভাগীয় প্রধান এবং আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন ।
তাদের নিজস্ব আয়ের খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম হোল্ডিং ট্যাক্স খাত থেকে ৩৫০ কোটি টাকা, বাজার সালামী ও ভাড়া খাত থেকে ১৫০ কোটি টাকা, ট্রেড লাইসেন্স খাত থেকে ৫০ কোটি টাকা, বিজ্ঞাপন খাত থেকে ৫ কোটি টাকা, রিক্সা লাইসেন্স ফি ২ কোটি টাকা, প্রমোদ কর ৫০ লাখ টাকা, ক্ষতিপূরণ ২ কোটি টাকা, স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর খাত থেকে ৫০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্যয়ের খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে সড়ক ও ট্রাফিক অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন , কবরস্থান ও শ্মশানঘাটের উন্নয়ন, নাগরিক ও বিনোদনমূলক সুবিধাদি উন্নয়ন , ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ , পরিবেশ উন্নয়নে বৃক্ষরোপন ও বনায়না ,পাবলিক টয়লেট উন্নয়ন, ভূমি রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন, ঢাকা নগর জাদুঘর উন্নয়ন , রাস্তা-নর্দমা-ফুটপাত উন্নয়ন , ঢাকা আরবান ইনফ্রাষ্ট্রাকচার ইম্প্রুভমেন্ট প্রকল্প , পলাশী থেকে গাবতলী পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নিমার্ণ প্রকল্প, মশক নিধণ ও এ সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি ক্রয়সহ প্রভৃতি খাতে বাজেটের টাকা ব্যায় করা হবে।
ঢকা, একে, ৬ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেএ





