দেশের মেধাসম্পদ ও ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের মালিকানা সুরক্ষায় একটি মেধাসম্পদ নীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়। বিশ্ব মেধাসম্পদ সংস্থা (ডব্লিউআইপিও)-এর সহায়তায় এ নীতি প্রণয়ন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে খসড়া মেধাসম্পদ নীতির রূপরেখা তুলে ধরে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এর ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের উপযোগী একটি কার্যকর মেধাসম্পদ নীতি প্রণয়ন করা হবে।
বুধবার মেধাসম্পদ নীতি প্রণয়নের লক্ষ্যে প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদনের ওপর আয়োজিত বহুপক্ষীয় সভায় এ তথ্য জানানো হয়। বিশ্ব মেধাসম্পদ সংস্থা (ডব্লিউআইপিও) এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেড মার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) যৌথভাবে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটির গোল্ড ওয়াটার কনভেনশন সেন্টারে সভার আয়োজন করে। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এতে প্রধান অতিথি ছিলেন।
পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেড মার্কস অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রার জামাল আবদুল নাসের চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্পসচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ্। এতে খসড়া প্রতিবেদন তুলে ধরেন বুয়েটের অধ্যাপক কামাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানে ডব্লিউআইপিও’র পরিচালক কিফ্লে সেনক্রু, শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নিমাই চন্দ্র পালসহ দেশি-বিদেশি মেধাসম্পদ বিশেষজ্ঞ, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিল্প উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমন্বিত মেধাসম্পদ নীতির অভাবে দেশিয় মেধাসম্পদের মালিকানা সুরক্ষা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে বাংলাদেশের কোনো কোনো ভৌগলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্যসহ নতুন উদ্ভাবনের পেটেন্ট নিবন্ধন হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। এতে করে বাংলাদেশি উৎপাদক ও উদ্ভাবকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন বলে তারা মন্তব্য করেন। তারা মেধাসম্পদের পাইরেসি প্রতিরোধে দ্রুত মেধাসম্পদ নীতি প্রণয়নের তাগিদ দেন। মেধাসম্পদ নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে তারা অন্য কোনো দেশের ধার করা নীতি অনুসরণ না করে নিজস্ব চাহিদা ও প্রয়োজন বিবেচনায় এনে একটি বাস্তবসম্মত নীতি প্রণয়নের সুপারিশ করেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, জ্ঞানভিত্তিক শিল্পায়নের লক্ষ্য অর্জনে যে কোনো মূল্যে মেধাসম্পদের পাইরেসি প্রতিরোধ করতে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য একটি সমন্বিত মেধাসম্পদ প্রণয়ন সময়ের অনিবার্য দাবি। এটি প্রণীত হলে, মেধাসম্পদের পাইরেসি কমার পাশাপাশি উদ্ভাবকগণ নিজেদের উদ্ভাবনের উপযুক্ত মূল্য পাবেন। এর ফলে পণ্যের মূল্য সংযোজনের সুযোগ বাড়বে। দেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনা করে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী বাস্তবধর্মী মেধাসম্পদ নীতি প্রণয়ন করা হবে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মেধা সম্পদ খাতে কারিগরি ও তথ্যগত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ‘টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন সাপোর্ট সেন্টার’স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশ্ব মেধা সম্পদ সংস্থার সহায়তায় এ সেন্টার স্থাপন করা হবে। এর ফলে দেশের উদ্ভাবক, বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ ও শিল্পদ্যোক্তারা সহজেই তাদের উদ্ভাবনের পেটেন্ট নিবন্ধন লাভ করবেন। এ প্রতিষ্ঠান মেধাসম্পদের বাণিজ্যিকীকরণ ও বাজার সম্প্রসারণে ইতিবাচক অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঢাকা,এমআর, ১৮ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমএ





