জমিতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে এনে জমিকে উর্বর করে তোলা ও অধিক ফলন পাওয়ায় গাইবান্ধায় কৃষকরা ঝুঁকে পড়ছে ভার্মি (কেঁচো) কম্পোস্ট সার ব্যবহারের দিকে। ভার্মি কম্পোস্টের এই প্রযুক্তি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাইহাটে আশা'র উদ্যোগে কৃষকদের মধ্যে সঞ্চালিত হচ্ছে।
নাকাইহাটের শীতল গ্রামের শওকত আলী মাস্টারের বাড়িতে বাস্তবায়নাধীন ভার্মি কম্পোস্টের প্রকল্প দেখতে সেখানে জড়ো হচ্ছে বিভিন্ন স্থানের উৎসাহী কৃষকরা। শওকত আলীর ওই প্রকল্পে বর্তমানে ২৫টি কম্পোস্ট ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। বিশাল আকারের একটি করে মাটির চারায় একটি করে ভার্মি কম্পোস্টের আধার তৈরি করা হয়েছে। মাটি দিয়ে ভর্তি ওই সব চারায় সংগৃহীত বিশেষ ধরনের ভার্মি বা কেঁচো দেয়া হয়েছে। শওকত আলী জানান ভার্মি কথিত এসব কেঁচো জৈবিক প্রক্রিয়ায় মাটির মধ্যে পরিশোধিত ইউরিয়া ছাড়াও ফসফেট, পটাশ, জিপসাম, ব্রোঞ্জ, জিংক তেরি করে।
ফলে চারার মাটি এসব উর্বর উপাদানসমৃদ্ধ সারে পরিণত হয়। ভার্মি থেকে উৎপন্ন এই জৈবিক সারকেই ভার্মি কম্পোস্ট বলা হয়। এসব ভার্মি বা কেঁচোগুলি এপিজেড নামীয় প্রজাতীর বলে শওকত মাস্টার জানান।
তিনি আরো জানান, বর্তমানে তার ভার্মি কম্পোস্ট ২৫টি ইউনিট হতে প্রতিমাসে প্রতিটিতে ১০ কেজি হিসেবে মোট ২৫০ কেজি ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদিত হচ্ছে। প্রতি কেজি ১০ টাকা হিসেবে কম্পোষ্ট বিক্রি করে প্রতিমাসে ২ হাজার ৫শ টাকা আয় করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। একটি জমিতে তিনবার এই ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করার পর ওই জমিতে আর কোন সার প্রয়োগ করতে হয় না, জমি তার প্রাকৃতিক ও আদ্যশক্তি ফিরে পায়।
তিন দফায় ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করে এই শক্তি সঞ্চালন করা সম্ভব। ১ বিঘা জমিতে প্রথম দফায় ৩০০ কেজি, ২য় দফায় ১৫০ কেজি, ৩য় দফায় ৭৫ কেজি ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করায় ওই জমিতে আর কোন সার প্রয়োগের দরকার হয় না। জমির সকল রাসায়নিক বিকীরণ বন্ধ হয়ে যায়।
ভার্মি কম্পোস্টেও প্রতিটি চারা বা ইউনিটে গোবর ৩০% ও পচা কলার গাছ, কোমল লতাপাতা, ডিমের খোসা, চা'এর ডাস্ট ও বসতবাড়ির সকল প্রকার পচাবাসী উচ্ছিষ্ট মিশ্রত করা হয়। এরপর ভার্মি বা কেঁচো গুলি ওই চারায় ছেড়ে দিয়ে একমাস অপেক্ষা করতে হয়। এক মাসের মধ্যেই প্রতিটি ইউনিট হতে মাটির আকারে ১০ কেজি করে সার সংগ্রহ করা যায়।
শওকত আলী মাস্টার জানান, তার পার্শ্ববর্তী এলাকার কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে সম্প্রতি আশার উদ্যোগে ভার্মি কম্পোস্টের ২ দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। আশার গাইবান্ধা জেলা ম্যানেজার আলিম মিয়া, আশা নাকাইহাট অঞ্চলের ম্যানেজার ছাইদুর রহমান এবং নাকাইহাট ব্রাঞ্চের ম্যানেজার আবু সাঈদ প্রশিক্ষণে উপস্থিত ছিলেন।
দুই দিনের ওই প্রশিক্ষণে গাইবান্ধা জেলার ৫০ জন সাধারণ কৃষক অংশ নেন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের হাতে কলমে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন, সংগ্রহ এবং ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয়।
জেডআই





