ট্রেনটি ছাড়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা অতপর, ‘ও ভাই, ও ভাই, দরজার খোলেন’- এমন ভাবে অনেকেই আহ্বান জানাচ্ছেন।
খুশির ঈদযাত্রা রূপ নিয়েছে দুঃস্বপ্নে। প্রতিটি ট্রেনই ৫ থেকে ১০ ঘণ্টা দেরি করে ছাড়ছে। শিডিউল বিপর্যয়ে বিপাকে পড়েছেন পরিবার পরিজন নিয়ে আসা যাত্রীরা।
অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস আসবে। এমন ঘোষণা শুনতেই, কয়েক’শ মানুষ প্লাটফর্মের পাশে এসে দাঁড়ালো। ট্রেনটি আসতে দেখে অনেকেই হতাশ ও বিপদগ্রস্ত। কারণ ট্রেনটির ভেতর ও ছাদে কোনো ফাঁকা জায়গা নেই।
এদিকে, রেল সচিব জানিয়েছেন, শিডিউল বিপর্যয়ের মধ্যেই ট্রেন চলবে। তবে যাত্রীরা চাইলে টিকিট ফেরত দিয়ে টাকা নিতে পারবেন।
নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১০ ঘন্টা দেরিতে স্টেশনের প্লাটফর্মে ট্রেন, ক্লান্তির পাহাড় ভুলে তাই ছাদে ঠাঁই নেয়ার আপ্রাণ চেষ্টা।
প্রিয়জনের সান্নিধ্য পেতে বাড়ির পানে ছুটলেও, রেলের শিডিউল বিপর্যয়ের কাছে হার মানতে হয়েছে হাজার হাজার যাত্রীকে। ট্রেনের অপেক্ষায় ক্লান্ত মানুষের ভিড় এখন পুরো প্লাটফর্ম জুড়ে। আনন্দের ঈদ যাত্রা মুহুর্তেই রূপ নিয়েছে বিষাদে।
কয়েকজন যাত্রী বলেন, তারা আমাদের সঙ্গে সঠিক সময়টা শেয়ার করছেন না। এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
ট্রেনের সময়সূচী বিপর্যয়ের অজুহাত হিসেবে, শুক্রবারের বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব স্টেশনে রেলের লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনাকে দায়ী করলেন কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, শুক্রবার সুন্দরবন এক্সপ্রেসটি বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বে লাইনচ্যুত হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের সব ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় হচ্ছে। প্রতিটি ট্রেন ছয় থেকে আট ঘণ্টা বিলম্বে আসছে। যাত্রীদের রেলের শিডিউল জেনে স্টেশনে আসার পরামর্শ দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ১ থেকে ৫ নম্বর কাউন্টারে টিকিট ফেরত নেওয়া হবে। টিকিট ফেরত দিলে পুরো টাকাই ফেরত পাবেন যাত্রীরা। কোনো ফি কাটা হবে না বলে জানিয়েছেন স্টেশন ম্যানেজার।
এএস





