বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) সকাল ১০ টায় এ পেনশন পদ্ধতি উদ্বোধন করা হবে।

গত ২৪ জানুয়ারি দেশের সব নাগরিককে পেনশনের আওতায় আনতে সংসদে ‘সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা বিল-২০২৩’ পাস হয়। এতে ১৮-৫০ বছর বয়সী সব নাগরিকের নির্ধারিত হারে চাঁদা পরিশোধ করে ৬০ বছর পূর্তির পর আজীবন পেনশন সুবিধা ভোগ করার বিধান রাখা হয়েছে।

গতকাল বুধবার (১৬ আগস্ট) পেনশন কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইট (www.upension.gov.bd) চালু হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণ করে আপনার ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। ওয়েবসাইটে পেনশন স্কিমগুলো সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য উল্লেখ রয়েছে।

শুরুতে ৪ শ্রেণির ব্যক্তি পেনশন কর্মসূচির আওতায় আসছেন। তারা হলেন- প্রবাসী বাংলাদেশি, বেসরকারি চাকরিজীবী, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের কর্মী এবং অসচ্ছল ব্যক্তি।

সরকারি পেনশন স্কিমে অংশ নেবেন যেভাবে-

মাসিক চাঁদা ধরা হয়েছে সর্ব নিম্ন ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫০০০ টাকা পর্যন্ত। তবে কর্মসূচি পরিবর্তন ও চাঁদার পরিমাণ বাড়ানোর সুযোগ থাকছে।

‘সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা বিল-২০২৩’ অনুসারে, ১৮-৫০ বছর বয়সী সব নাগরিক নির্ধারিত হারে চাঁদা পরিশোধ করে ৬০ বছর পূর্তির পর আজীবন পেনশন সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

বিশেষ বিবেচনায় ৫০ বছরের বেশি বয়সীরাও এ আইনের আওতায় নিরবচ্ছিন্ন ১০ বছর চাঁদা পরিশোধ করে পেনশন সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

সে ক্ষেত্রে স্কিমে অংশগ্রহণের তারিখ থেকে নিরবচ্ছিন্ন ১০ বছর চাঁদা প্রদান শেষে তিনি যে বয়সে উপনীত হবেন, সে বয়স থেকে আজীবন পেনশন প্রাপ্য হবেন।

উল্লেখ্য, আজীবন বলতে পেনশনারের বয়স ৭৫ বছর পর্যন্ত বিবেচনা করা হয়েছে।

চাঁদা দাতা ধারাবাহিকভাবে অন্তত ১০ বছর চাঁদা দিলে মাসিক পেনশন পাবেন। চাঁদা দাতার বয়স ৬০ বছর পূর্তির পর পেনশন তহবিলে পুঞ্জীভূত মুনাফাসহ জমার বিপরীতে পেনশন দেওয়া হবে। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীরা এ পেনশন কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন।

এছাড়া নিম্ন আয় সীমার নিচের নাগরিকদের অথবা অসচ্ছল চাঁদা দাতার ক্ষেত্রে পেনশন তহবিলে মাসিক চাঁদার একটি অংশ সরকার অনুদান হিসেবে দিতে পারবে।

একজন পেনশনার আজীবন পেনশন সুবিধা পাবেন। পেনশনে থাকাকালীন ৭৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মারা গেলে, তার নমিনি অবশিষ্ট সময়ের জন্য (মূল পেনশনারের বয়স ৭৫ বছর পর্যন্ত) মাসিক পেনশন প্রাপ্য হবেন।

চাঁদা দাতা অন্তত ১০ বছর চাঁদা দেওয়ার আগে মারা গেলে, জমা করা অর্থ মুনাফাসহ তার নমিনিকে ফেরত দেওয়া হবে।

কত জমায় কত টাকা পাওয়া যাবে?

পেনশন তহবিলে জমা অর্থ কোনো পর্যায়ে এককালীন তোলার প্রয়োজন পড়লে, চাঁদা দাতা আবেদন করলে জমা অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ঋণ হিসেবে তুলতে পারবেন। পরবর্তীতে তা ফিসহ পরিশোধ করতে হবে।

পেনশন থেকে পাওয়া অর্থ আয়কর মুক্ত থাকবে। পেনশনের জন্য নির্ধারিত চাঁদা বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য করে কর রেয়াতের জন্য বিবেচিত হবে।

এ পেনশন পদ্ধতিতে সরকারি বা আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত অথবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে পারবে। সেক্ষেত্রে কর্মী ও প্রতিষ্ঠানের চাঁদার অংশ নির্ধারণ করবে কর্তৃপক্ষ।

সরকারি সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি ও আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরতরা পেনশন ব্যবস্থার আওতা বহির্ভূত থাকবে।

আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা প্রবর্তন করবে।

এন