রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার উত্তর রামনাথপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাতের অন্ধকারে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের নতুন তিন বস্তা বই কেজি দরে বিক্রি করে দিয়েছেন। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক মাজনুন কাদীর খানকে অভিযুক্ত করে থানায় ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী হয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম শহিদুল ইসলাম।
রোববার দুপুরে রামনাথপুর উচ্চবিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় মাঠে শত শত মানুষের ভিড়। সরকারি বই বিক্রির খবর পেয়ে সেখানে হাজির হয়েছেন বদরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম শহিদুল ইসলামসহ এলাকার অভিভাবকরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শনিবার রাত সাড়ে আটটায় প্রধান শিক্ষক মাজনুন কাদীর খান তার অফিস সহকারি আলতাফ হোসেনকে নিয়ে রাতের অন্ধকারে বিদ্যালয়ে আসেন। তিনি বিদ্যালয়ের বারান্দায় থাকা বৈদ্যুতিক বাতি নিভিয়ে দেন। এ সময় তিনি গ্রন্থাগারে থাকা পুরাতন উত্তরপত্রের সঙ্গে তিন বস্তা নতুন বই কেজি দরে বিক্রি করেন। বইগুলো কিনে নেন পাশের গ্রামের আবু বক্করের ছেলে বাদশা মিয়া।
ঘটনার সময় ওই বিদ্যালয়ের পাশের কক্ষে কোচিংয়ে থাকা দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আপেল মাহমুদ বলেন, হেড স্যার নিজে কেজি দরে দাঁড়িপাল্লা দিয়ে মেপে প্রায় তিন বস্তা বই বিক্রি করেছেন। কেউ যাতে টের না পায় এ জন্য তিনি বিদ্যালয়ের বাইরের বাতি বন্ধ করে দেন।
সকালে বই বিক্রির খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রধান শিক্ষক নৈশপ্রহরী আবু সায়েদ খানকে সন্দেহ করেন। রোববার সকালে প্রধান শিক্ষক নৈশপ্রহরী আবু সায়েদকে মারধর করেন। আবু সায়েদ বলেন, বই নিয়ে যাওয়ার সময় আমাকে বাড়িতে যেতে বলা হয়। ওই সময় আমি রাতের খাবার খাওয়ার জন্য বাড়ি যাই। প্রধান শিক্ষক প্রায় সময় নানা অজুহাতে আমাকে গালিগালাজ করে মারধর করেন।
ঘটনার সাক্ষী রিক্সাভ্যান চালক মজিবর রহমান বলেন, আমার ভ্যানে করে বইগুলো বাদশার বাড়িতে পৌঁছে দেই। বস্তার ভেতর আর কী কী ছিল তা আমার জানা নেই।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মাজনুন কাদীর খান বলেন, আমি কোনো বই বিক্রি করি নাই। হয়তো আমার অফিস সহকারী আলতাফ হোসেন কিছু পুরাতন কাগজপত্র বিক্রি করেছে।
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম শহিদুল ইসলাম বলেন, বই বিক্রির সত্যতা পাওয়া গেছে। বিক্রি করা কয়েকটি বই উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত করে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত আছে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দেয়া হয়েছে।
কেএইচ





