ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) দক্ষিণের নির্বাচনে মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হাজী সেলিমকে ‘শোকজ’ করতে পারে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে তাকে এ শোকজ করতে পারে বলে জানা যায়।

সূত্র জানিয়েছে, তফসিল ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন প্রার্থী ও তাদের সমর্থিত লোকজন হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গের অভিযোগ আনছেন।

রোববার বিকাল পাঁচটার পরেও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ এসেছে।

এতে বলা হয়েছে, হাজী সেলিম বিভিন্ন সভায় অংশ নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। সোমবারও একটি সভায় অংশ নেবেন। সভাটি বংশালের হাজী জুম্মন কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে হাজী সেলিমের।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আনিত এ অভিযোগের সঙ্গে ওই সভার আমন্ত্রণ পত্রের কপিও জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ঘোষিত অপর মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সাঈদ খোকনও আচরণ বিধি ভঙ্গের অভিযোগ এনেছেন। অভিযোগে আগাম প্রচারণা চালানো ছাড়াও এমপি হিসেবে হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে সরকারি সুবিধা নিয়ে ক্ষমতার প্রভাব খাটানোর কথা বলা হয়েছে।

হাজী সেলিম ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং মোহাম্মদ সাঈদ খোকন সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নির্বাচন কর্মকর্তা বলেছেন, হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আসছে। তবে এগুলোর সবগুলোই আমলে নেওয়ার মতো নয়। আবার যেসব অভিযোগ আমলে নেওয়া মতো সেগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার প্রয়োজন।

জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে একটি সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে হাজী সেলিমের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ৩২ নম্বর ওয়ার্ড পঞ্চায়েত কমিটি প্রধান সভায় সভাপতিত্ব করবেন।

আর তাকেই একজন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সোমবার দুপুরে লিখিতভাবে জানিয়ে আসবেন, হাজী সেলিমকে যেন সভায় উপস্থিত হতে নিষেধ করা হয়। কেননা, আচরণবিধি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের আগে কোনো সম্ভাব্য প্রার্থী কোনো সভা-সামবেশে অংশ নিতে পারেননা।

অন্য একজন নির্বাচন কর্মকর্তা জানান, লিখিতভাবে নিষেধ করা স্বত্ত্বেও যদি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে তবে শোকজ করা হবে।

এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা মিহির সারওয়ার মোর্শেদ জানিয়েছেন, আমরা বিভিন্ন জনের দেওয়া অভিযোগ খতিয়ে দেখছি। কারো বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে।

নির্বাচনী আচরণ বিধি অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সব প্রকার আগাম প্রচারণা বন্ধ করতে হয়। এছাড়া প্রচারণা শুরু করা যায় প্রতীক বরাদ্দের দিন থেকে, যা বন্ধ করতে হয় ভোটগ্রহণের ৩২ ঘণ্টা পূর্বে। ডিসিসি নির্বাচন হবে ২৮ এপ্রিল। এ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ হবে ১০ এপ্রিল।

এসএইচ