গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন এলাকায় কালবৈশাখী ঝড় ও দমকা হাওয়ায় কাঁচা ঘরবাড়ি, ছোট-বড় অসংখ্য গাছ ও উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে আধা ঘণ্টাব্যাপী ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঝড় ও প্রচণ্ড গতির বাতাসে জেলার ৭ উপজেলায় সহাস্রাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। শত শত বিভিন্ন প্রজাতির ছোট-বড় গাছ উপড়ে পড়েছে এবং ক্ষেতের ধান ও বিভিন্ন প্রকার ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

এছাড়া ঝড়ের সময় আম, কাঠাল, লিচু ও জামের মুকুলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি ও তার ছিড়ে পড়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক এলাকা ভূতুড়ে অবস্থা বিরাজ করছে।

জেলা সদর, সাঘাটা উপজেলার কচুয়া, কামালেরপাড়া, বোনারপাড়া, ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি, গজারিয়া, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শাখাহার, শালমারা ও মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নে ব্যাপক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ও গাছপালা উপড়ে পড়ার কথা জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থরা। পাশাপাশি এ সব এলাকায় ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শালমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমির হোসেন শামীম জানান, ঝড় ও বাতাসে তার ইউনিয়নে সবচেয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ১৫-২০ মিনিটের স্থায়ী বাতাস ও ঝড়ে শত শত ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ও বসতবাড়িসহ রাস্তার ধারে অসংখ্য গাছপালা উপড়ে গেছে। এ ছাড়া ধানের জমিসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ তিনি জানাতে পারেননি।

সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শিপন জানান, তার ইউনিয়নের পীরেরহাট এলাকায় শনিবার দিনব্যাপী বারুণীর মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কয়েক হাজার দোকান ও অর্ধ লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটে। কিন্তু সন্ধ্যার পর হঠাৎ করে বৃষ্টির সঙ্গে তীব্র বাতাসে মেলাস্থলের দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মুহূর্তেই লন্ডভন্ড হয়ে যায়। এ ছাড়া তার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বেশকিছু ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক মো. এহসানে এলাহী রাতে জানান, জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঝড় ও বৃষ্টির কারণে বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে প্রাথমিকভবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেননি।

এআর