বিএনপির রাজনীতির সমালোচনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি দুর্দিনেও নেই, উন্নয়নে নেই। আছে তারা লুটপাটে। এটা তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য।

কক্সবাজারে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগ গড়ে উঠেছে। এদেশের প্রতিটি মানুষের অধিকার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ রয়েছে।আজ আমরা মাতৃভাষায় কথা বলি। সেটাও আওয়ামী লীগের অবদান।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বাধীনতার পর সাড়ে তিন বছর বেঁচে ছিলেন বঙ্গবন্ধু।বঙ্গবন্ধু যখন উন্নয়নের পথে পা বাড়ালেন তখন তাকে হত্যা করা হয়েছে।

হত্যার পর জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, চলাফেরার অধিকার সংকুচিত করে দিয়েছে। প্রতি রাতে জিয়াউর রহমান কারফিউ ঘোষণা করেছে। নিজে স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি হয়েছেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাধিক মেয়াদে ক্ষমতায় থাকলেও বিএনপি দেশের উন্নয়ন করেনি। কিন্তু আমি আপনাদের সামনে খালি হাতে আসিনি। অনেক প্রকল্প নিয়ে এসেছি। যে কাজগুলো ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলো উদ্বোধন করেছি। যেগুলো করব, সেগুলোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু এখানে পর্যটক আসে, সেহেতু তাদের যাতায়াতের জন্য বিমান নিয়ে এসেছি। এই বিমান আজ কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথম অবতরণ করলো। আমি এই বিমানের মাধ্যমে এখানে আন্তর্জাতিক রুট পরিচালনার ঘোষণা দিলাম।’ বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এই এয়ারপোর্টটি (বিমানবন্দর) জরাজীর্ণ ছিল, ৯৬ সালে সরকারে এসে এটিকে উন্নত করে যাই। এই বিমানবন্দরকে উন্নত করার জন্য আরও কিছু উদ্যোগ নিয়েছি।’

বিমানবন্দরটি যেন আন্তর্জাতিক মানের হয়, সে জন্য রানওয়ে প্রশস্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ কক্সবাজারবাসী অবহেলিত ছিল আমি জানি। যখনই কোনও দুর্যোগ দেখা দিয়েছে আমরা এসেছি, আপনাদের সেবা করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৯৯১ সালে ঘূর্ণিঝড়ের সময় বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। এত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বিএনপি নেত্রী জানতেন না। আমি সংসদে তোলার পর উনি বলে দিলেন, যত মরার কথা, তত মানুষ মরে নাই। আমি প্রশ্ন করেছিলাম, কত মানুষ মরলে আপনার তত মানুষ হবে? এরপর আমরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে ছুটে এসেছিলোম। আসার পথে কঠিন অবস্থায় পড়তে হয়েছিল। রাস্তা ভাঙা ছিলে। এরইমধ্যে এসে সমস্ত দ্বীপাঞ্চল ঘুরে ঘুরে রিলিফ ওয়ার্ক করেছি। তখন পর্যন্ত বিএনপি সরকারের কেউ আসেনি। যখন কুতুবদিয়াতে নামি লাশের পর লাশ পড়ে ছিল। নেভির লোক কোনোভাবে লাশ দাফন করেছিল। সেইদিনই সেনাবাহিনীর একটি দল এসেছিল। প্রত্যেক এলাকায় ঘুরে ঘুরে মানুষের লাশ, শিশুর লাশ আমি নিজে দেখেছি। সাপ গরুর লাশ, ছোট্ট শিশুর লাশ ভেসে ভেসে আসছে। সেই বিভৎস দৃশ্য। যতটা পেরেছি মানুষকে সহায়তা করেছি। রিলিফ দিতে এসে হুমকির সম্মুখীন হয়েছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অবৈধভাবে যারা ক্ষমতা দখল করে, সংবিধান লঙ্ঘন করে যারা ক্ষমতা দখল করে, তারা জনগণের কথা ভাবে না। তারা ক্ষমতা ভোগ করে আর কিছু এলিটকে লুটপাটের সুযোগ করে দেয়। ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসে ঘোষণা দিয়েছিলাম, আমি শাসক না জনগণের সেবক হিসেবে বাংলাদেশ পরিচালন করব।

শেখ হাসিনা বলেন, আমার বাবা দেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন, আমি জানি এটা আমার জন্য কঠিন পথ। কারণ এই মাটিতে আমার বাবা-মা-ভাইসহ পুরো পরিবারকে হত্যা করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘একইদিনে মেজ ফুফুর বাড়ি সেজ ফুফুর বাড়িতে আক্রমণ করে তার স্বামী ছেলেকে হত্যা করেছে, আমার ছোট ফুফুর বাড়িতেও আক্রমণ করে ফুফাকে না পেয়ে ফুফুকে গৃহবন্দি করেছে। এভাবে হত্যাযজ্ঞ চলেছে।

এমই