গাজীপুরের সালনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুষ্ঠান চলাকালে হঠাৎ বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়।
প্রায় ১০ মিনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় অনুষ্ঠানও থমকে যায়। এ কারণে পল্লী বিদ্যুতের দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
তারা হলেন- গাজীপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ব্যবস্থাপক মো. জহিরুল ইসলাম এবং উপমহাব্যবস্থাপক (টেকনিক্যাল) খান মো. বোরহান উদ্দিন।
শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়টির ষোড়শ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এ ঘটনার পর পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মঈন উদ্দিন তাদের সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ষোড়শ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধামন্ত্রী পৌঁছে কয়েকটি স্থাপনা উদ্বোধনের সময় সকাল সোয়া ১০টার দিকে হঠাৎ বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়। প্রায় ১০ মিনিট বিদ্যুৎহীন থাকায় অনুষ্ঠানও থমকে যায়।
এ ঘটনার পর ওই দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশের পাশাপাশি গাজীপুরের পল্লী বিদ্যুৎ সামিতির ছায়াবিথী জোনাল অফিসের উপ মহাব্যবস্থাপক নূর মোহাম্মদকে ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপকের দায়িত্ব দেয় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড।
এ ব্যাপারে নূর মোহাম্মদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘অতিরিক্ত লোডের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সার্কিট ব্রেকার পুড়ে গিয়ে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গিয়েছিল। পরে সঙ্গে সঙ্গেই বাইপাস সংযোগ দিয়ে বিদ্যুৎ লাইন আবারও সচল করা হয়।’
ওই দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি জানান, তদন্ত কমিটিতে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সদস্য (পবিস ব্যবস্থাপনা) মো. আব্দুস সাত্তার বিশ্বাসকে প্রধান করা হয়েছে। অন্য সদস্যরা হলেন- প্রধান প্রকৌশলী মোস্তাফিজুল হক চৌধুরী ও পরিচালক (সিস্টেম অপারেশন কেন্দ্রীয় অঞ্চল) অঞ্জন কান্তি দাস।
ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া কেন্দ্রীয় গবেষণাগার, শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টর হল, কৃষি অনুষদ ভবন, ফিশারিজ অনুষদ ভবন, ভেটেরিনারি মেডিসিন অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স অনুষদ ভবন এবং বেগম সুফিয়া কামাল অডিটরিয়াম উদ্বোধন করেন।
এছাড়াও প্রফেসর ড. এল এম আইজগ্রুবার গ্রাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদ ভবন, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হল, ইলা মিত্র হল এবং কৃষিবিদ কাজী এম বদরুদ্দোজা বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের নামফলক উন্মোচন করেন শেখ হাসিনা।
উল্লেখ্য, গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও হস্তান্তরের উদ্দেশে এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কৃষি শিক্ষার যথার্থতা মূল্যায়ন ও মর্যাদাদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৮ সালের ২২ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩শ শিক্ষার্থী, ১৭৮জন শিক্ষক, ৮৭ জন কর্মকর্তা ও ২৩৯ জন কর্মচারী রয়েছেন।
এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতোমধ্যে ৩০টি ফসলের জাত ও কৃষি উন্নয়নে ১৫টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে।
এসএইচ





