ময়মনসিংহ জেলা শহরের একটি ফ্যাক্টরি থেকে যাকাতের কাপড় সংগ্রহ করতে গিয়ে পদদলিত হয়ে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরো কয়েকশ'।
শুক্রবার ভোরে শহরের পৌর এলাকার অতুল চক্রবর্তী রোডের নূরানি জর্দা ফ্যাক্টরির ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। মৃতদের বেশির ভাগই হতদরিদ্র নারী। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, নূরানি জর্দা ফ্যাক্টরির পক্ষ থেকে দুস্থ-অসহায় নারীদের মধ্যে যাকাতের কাপড় বিতরণ করার ঘোষণা দেয়া হয় বৃহস্পতিবার রাতে। খবর পেয়ে হাজারো নারী-পুরুষ মধ্যরাতের পর থেকেই অতুল চক্রবর্তী রোডে ফ্যাক্টরির গেটের সামনে জড়ো হয়।
সেহরির পরে ফ্যক্টরির গেট খুলে দেয়া হয়। এসময় গেট দিয়ে একসঙ্গে শত শত লোকজন ঢোকার চেষ্টা করলে হড়োহুড়ি লেগে যায়। এতে পদদলিত হয়ে ঘটনাস্থলেই অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়। এদের বেশিরভাগই নারী।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে। তবে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আহতদের ভর্তি করা হয়েছে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
পদদিলিত হয়ে ২৭ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মইনুল হক। তিনি জানান, ঘটনার পর ফ্যাক্টরির মালিকসহ ৬ জনকে আটক করা হয়েছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, ময়মনসিংহ পৌরসভা কার্যালয়ের পাশে ব্যবসায়ী শামীমের নূরানী জরদা কারখানা কার্যালয়ে আজ সকালে জাকাতের কাপড় দেয়ার কথা ছিল।
এই খবরে শহরের বস্তি এবং ব্রহ্মপুত্র পাড়ের চর এলাকার নারী, পুরুষ ও শিশু বৃহস্পতিবার রাত ১০ টার পর থেকে ওইখানে ভিড় জমায়। আজ সেহরির সময় জরদা ফ্যাক্টরির মূল ফটক খোলার পর নারী-পুরুষ এক সঙ্গে ঝাপিয়ে পড়ে কাপড়ের জন্য।
এ সময় ধাক্কাধাক্কির এক পর্যায়ে পদদলিত হয়ে ঘটনাস্থলসহ হাসাপাতালে নিহত হয়েছেন ২৭ জন। আহতদের ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এমআর/ এআর





