অবশেষে ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে ‘রোহিঙ্গা’শব্দটি উচ্চারণ করেছেন।

আজ (শুক্রবার) ঢাকায় ১৬ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এ সময় পোপ বলেন, ‘আজ ঈশ্বরের উপস্থিতির মানেই হলো রোহিঙ্গা।’(The presence of God today is also called Rohingya.) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎকারী রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার থেকে ঢাকায় নেওয়া হয়।

এর আগে মিয়ানমার সফরে এবং বাংলাদেশ সফরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের  সমাবেশের আগ পর্যন্ত রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করা থেকে বিরত থাকেন তিনি।  মিয়ানমারে আসার আগে মিয়ানমারের আর্চবিশপ পোপকে এমন পরামর্শই দিয়েছিলেন।

সাক্ষাতের আগে কাকরাইল গীর্জা প্রাঙ্গনে বাংলাদেশ ক্যাথলিক মন্ডলী আয়োজিত সর্বধর্মীয় সমাবেশে অপেক্ষা করার সময় বিদেশি এক মিডিয়াকর্মী নুরুল্লাহ নামে রোহিঙ্গাকে প্রশ্ন করেছিলেন, তাদের রোহিঙ্গা বলাটা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

এর জবাবে নুরুল্লাহ বলেন, “আমার দাদা রোহিঙ্গা। আমার দাদী রোহিঙ্গা। আমার বাবা রোহিঙ্গা। আমিই রোহিঙ্গা। এটাই আমার পরিচয়।”

হাজারা খাতুন নামের এক রোহিঙ্গা বলেন, রাখাইনে তাদের ওপর এমন কোন নির্যাতন নাই যে করা হয় নি। তারা প্রাণ ভয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। এবং তারা রাখাইনে নিজ বাড়িঘরে ফিরে যেতে চান।

মোহাম্মদ নুরুল্লাহ নামের অপর এক রোহিঙ্গা বলেন, নাগরিকত্ব নিয়ে তারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে চান। পোপের কাছে এমন দাবিই তারা জানাবেন।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশে পোপ বলেন, “আমি জানি আপনারা অনেক দূর থেকে এসেছেন, দুই দিনের সফরে। আপনাদের উদারতার জন্য ধন্যবাদ। এতেই বোঝা যায় গির্জার জন্য আপনাদের ভালোবাসা কেমন।”

বাংলাদেশে আসার আগে মিয়ানমারে ৩দিনের সফরে পোপ ফ্রান্সিস দেখা করেছেন দেশটির নেত্রী অং সান সুচি এবং সেনা বাহিনী প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং এর সঙ্গে।

কিন্তু এই সফরের সময় কোন বৈঠক কিংবা ভাষণে একবারও ‘রোহিঙ্গা’শব্দটি উচ্চারণ করেননি খ্রিস্টানদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস।  

এ নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন বেরিয়েছিল। মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের কখনোই ‘রোহিঙ্গা’ হিসেবে অভিহিত করে না।

উল্লেখ্য, বুধবার (২৯ নভেম্বর) কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের (আরআরআরসি) মো. আবুল কালাম জানান, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নিপীড়নের মুখে ২৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ৬ লাখ ৩৫ হাজার। এছাড়া, আগের ২ লাখ ৪ হাজার ৬০ জন মিয়ানমার নাগরিক বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলেও জানান তিনি।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ উগ্রপন্থিরা রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর গণহত্যা,নারী ধর্ষণ ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ফলে রোহিঙ্গারা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয় বলে অভিযোগ এনেছে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা। জাতিসংঘ বলেছে, রাখাইনে ‘জাতিগত নিধন’চলছে।

এমবি