সোনারগাঁয়ের জামপুর ইউনিয়নের মহজমপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকের বেত্রাঘাতে ১০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।
বুধবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে ওই স্কুলের ৭ম শ্রেণির ‘খ’শাখায় এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীদের স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষক হাবিবুল্লাহকে একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন।
এদিকে ঘটনার পর বিকেলে ওই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু নাছের ভূঁঞা ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন। এ ঘটনায় ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পরে ওই শিক্ষককে গ্রেফতার করে পুলিশ।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, মহজমপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক হাবিবুল্লাহ বুধবার দুপুর একটার দিকে ৭ম শ্রেণির ‘খ’শাখায় ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র ক্লাস নিচ্ছিলেন।
এসময় কয়েকজন শিক্ষার্থী পড়া না পাড়ায় অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন এবং তার কাছে প্রাইভেট না পড়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। এসময় শিক্ষার্থী সিনথিয়া, ইরিন, সামিয়া, নাজনিন, বুশরা, রাত্রী, সানজিদা, তানিয়া, নাদিয়াসহ ১০ শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত করে আহত করেন।
পরে স্কুলের কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেন। খবর পেয়ে এলাকাবাসী, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষককে একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে স্কুল মাঠে বিক্ষোভ করেন। এসময় ওই শিক্ষকের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এলাকাবাসী ও স্কুলের অভিভাবকদের অভিযোগ, মহজমপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক হাবিবুল্লাহের কাছে শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট না পড়লেই বেত্রাঘাত ও অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে অশোভন আচরণ করেন।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত হারুনুর রশিদ জানান, এ ঘটনায় ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরে ওই শিক্ষককে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
মহজমপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু নাছের ভূঁঞা সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ওই শিক্ষককে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ওএফ





