গত বছরের দুঃসহ ক্ষত ভুলে এবার কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় শান্তিপূর্ণভাবে দেশের সবচেয়ে বড় ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয় এ জামাত।

এবারের ঈদের জামাতটি ছিল এই ঈদগাহ’র ১৯০তম। জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা ফরীদ উদদীন মাসউদ।

গত ঈদুল ফিতরে শোলাকিয়ায় উগ্রপন্থীদের হামলা হওয়ায় এবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছিল ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঈদগাহর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত এক মাস ধরে চলে পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা।

ঈদের দিন সকাল থেকে ঈদগাহ ও এর আশেপাশে মোতায়েন ছিল পুলিশের নিয়মিত সদস্যদের পাশাপাশি ৮ প্লাটুন বিজিবি, ২০ প্লাটুন আর্মড পুলিশ। ছিল বিপুল সংখ্যক র‌্যাব ও আনসার সদস্যের সমন্বয়ে নিশ্ছিদ্র ও কঠোর নিরাপত্তা বলয়। পাশাপাশি মাঠে সাদা পোষাকে নজরদারিতে ছিল বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।

এছাড়া, শোলাকিয়ায় আসা মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে শহরসহ মাঠের প্রবেশ পথগুলোতে বসানো হয়েছিল সহস্রাধিক সিসি ক্যামেরা ও ৮টি ওয়াচ টাওয়ার।

দেশের সর্ববৃহৎ এ জামাতে অংশ নিতে ভোর থেকেই মুসল্লিদের ঢল নামে শোলাকিয়ায়। সকাল শুরু হওয়ার আগেই কোলাহলে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো কিশোরগঞ্জ। শহরের সবগুলো প্রবেশ পথ দিয়ে এগুতে থাকে মুসল্লিদের মিছিল।

তবে মাঠে প্রাবেশের আগে নিরাপত্তার কড়াকড়ি ও মোবইল নিয়ে ঢুকতে না দেয়ায় অনেক মুসল্লিকে ফিরে যেতে হয়েছে। এরপরেও জেলা শহরের পূর্বপ্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত শোলাকিয়ার মাঠ জামাতের আগে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

এবারের ঈদুল ফিতরের জামাতে দেড় লাখের মতো মুসল্লি অংশ নেন বলে প্রশাসেনের লোকজন ধারণা দেন। আগত মুসল্লিদের অনেকে মাঠে জায়গা না পেয়ে পার্শ্ববতী রাস্তা ও ব্রিজের ওপর নামাজে দাঁড়ান। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহ’র শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

ঈদ জামাতে জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান, জেলা প্রশাসক মো: আজিমুদ্দিন বিশ্বাস, পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন খান, পৌর মেয়র মাহমুদ পারভেজসহ জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ জাতীয় ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।

কেবি