প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক ইলাহী চৌধুরী জানিয়েছেন,  রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম চলবে।

আজ সোমবার বিদ্যুৎ ভবনে মন্ত্রনালয়ের এক জরুরি সভা শেষে তিনি একথা জানান। বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম চালানোর সুবিধার্ধে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও নির্মাণ করা যাবে বলে জানান তিনি।

এর আগে গত ২ জুলাই ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য কেন্দ্রের ৪১তম বার্ষিক অধিবেশনে যোগদান শেষে ৬ জুলাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, ইউনেসকো রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যাপারে তাদের আপত্তি তুলে নিয়েছে।

এ প্রতিবেদনের পর গতকাল রোববার প্রকাশিত ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য কেন্দ্রের ৪১তম সভার সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় থেকে পাঠানো ওই দাবি উল্লেখ নেই। 

এরই প্রেক্ষিতে সোমবার বিকালে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ ভবনে সভা ডাকা হয়।

উল্লেখ্য, ইউএসএ’র মন্টানা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইলিয়াম ক্লায়েন্ডল ও অস্ট্রেলিয়ার জন ব্রুডি এই দুই বিজ্ঞানীর এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা পরিবহনের জন্য যে ড্রেজিং করতে হবে, এতে ওই এলাকার মাছ’সহ জলজ প্রাণীদের বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকা হুমকিতে পড়বে। আর্ন্তজাতিক বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বঙ্গোপসাগর ও পশুর নদীতে ড্রেজিংয়ের ফলে সৃষ্ট পরিবেশের ওপর হুমকিগুলো পর্যাপ্তভাবে মূল্যায়ন করেনি এবং ঐ হুমকিগুলি নিরসন ও হ্রাসে পর্যাপ্ত পরিকল্পনা করেনি। কয়লা পরিবহনের জন্য গভীর চ্যানেল তৈরী করতে ৩৩মিলিয়ন টন পলি-কাদা বঙ্গোপসাগর ও পশুর নদী হতে ড্রেজিং করা হবে। ড্রেজিং করা ও পলি-কাদার ডিজপোজাল সুন্দরবনের খাড়ি ও বঙ্গোপসাগরের পানি ঘোলা করবে,ফলে আলো প্রবেশ করবে না এবং খাদ্য চক্রের ভিত্তি ফাইটোপ্লাঙ্কটন জন্মাতে বাঁধা সৃষ্টি করবে। সরকার ড্রেজিং করা পলি-কাঁদা কোথায় ডাম্পিং করবে তা সুনিদিষ্ট করেনি এবং জলজ প্রজাতিসমুহের ওপর হুমকি মূল্যায়ন করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের দূষণ বিশেষজ্ঞ এ ডেনিস লেমনির রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লার ছাইয়ের দূষণ নিয়ে করা এক গবেষণায় বলা হয়েছে, রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বের হওয়া ছাইয়ের দূষণে বছরে ১০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ টাকার মাছ মারা যাবে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে ৬০ বছরে ৩ কোটি ৮০ লাখ টন ছাই বের হবে। যার ১ কোটি ৮০ লাখ টন ছাই বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হবে। বাকি দুই কোটি টন ছাই পুকুর বানিয়ে সেখানে ফেলা হবে- যা যেকোনো সময় ঝড় বা বন্যার কবলে পড়ে পুরো সুন্দরবন এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে খুলনা থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

এমবি