চিরিরবন্দরে আসামি ধরতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৭০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পুলিশের মামলায় গ্রেফতার এড়াতে উপজেলার তুলসিপুর গ্রাম ইতোমধ্যে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।

পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধাদানের অভিযোগে শুক্রবার রাতে চিরিরবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আতোয়ার রহমান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান মামলার সত্যতা স্বীকার করে জানান, আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের গুলিতে একজন নিহত হলেও চার পুলিশ আহত হন।

এদিকে, শনিবার বিকেল ৫টায় নিহত যুবদলকর্মী রেজওয়ান হোসেনের (২১) জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

উল্লেখ্য, শুক্রবার বিকেলে চিরিরবন্দর উপজেলার পুনট্টি ইউনিয়নের তুলসিপুর গ্রামের তালপাড়ায় এজাহারভুক্ত আসামি হবিবর রহমানকে (৫০) আটক করে পুলিশ। এ সময় তাকে ছাড়িয়ে নিতে পরিবারের সদস্যরা পুলিশের ওপর চড়াও হলে সংঘর্ষ বেধে যায়।

এক পর্যায়ে পলিশ গুলি ছুঁড়লে যুবদলকর্মী রেজওয়ান হোসেন নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের মা আম্বিয়া বেগম (৪৫), দাদী হনুফা বেগম (৭০) ও ছোট ভাই হায়দার আলী (১৮) গুলিবিদ্ধ হন।

এছাড়াও গ্রামবাসীদের হামলায় এএসআই মোস্তাফিজুর রহমান, কনস্টেবল হাবিবুল্লাহ, জাহাঙ্গীর ও রবিউল আহত হন। অবস্থা বেগতিক দেখে ওসি ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে পুলিশ পিছু হটে। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করে।

নিহত রেজওয়ান হোসেন তুলসিপুর গ্রামের তালপাড়া এলাকার হবিবর রহমানের বড় ছেলে এবং স্থানীয় একটি মাদরাসার ছাত্র ছিলেন।

জেআই