রাজশাহী মহানগরীর রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজে ফের দলীয় কোটার দাবিতে হামলা ও ভাংচুর চালিয়েছে ছাত্রলীগ।

রোববার একাদশ শ্রেণীতে চলা ১১তম অপেক্ষমাণ তালিকা প্রকাশের সময় তারা কলেজে হামলা চালায়। সে সময় কলেজের একাদশ শ্রেণীর চলমান ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা।

১১তম অপেমাণ তালিকা প্রকাশ ঠেকাতে গতকাল রোববার বেলা ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটায় তারা। এ সময় ছাত্রলীগ ক্যাডাররা ভর্তি কেন্দ্র ও উপাধ্যরে কে হামলা ও ব্যাপক ভাংচুর চালায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কলেজের অধাক্ষ্য প্রফেসর কবিরুল ইসলাম জানান, রোববার বেলা ২টার আগেই ১০ম অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ভর্তি শেষ হয়।

এরপর বিজ্ঞানে ১৫, মানবিকে ৩৫ ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ২৫টি আসন শূন্য ছিল। ওইসব আসনে ভর্তি সম্পন্ন করতে ২টার দিকে ১১তম অপেক্ষমাণ তালিকা প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছিল ভর্তি কমিটি।

এ সময় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শামসুল আরেফিন রবিনের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা অপেক্ষমাণ তালিকা প্রকাশে বাধা দেয়। এতে ভর্তি কমিটি রাজি না হওয়ায় তারা ভর্তি কেন্দ্রের কম্পিউটারসহ আসবাবপত্র ভাংচুর করে।

পরে তারা অধাক্ষ্যর ঘরে হামলা ও ভাংচুর চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।অবৈধ্য উপায়ে পছন্দের ছাত্র ভর্তি করাতে না পেরে ছাত্রলীগ এই হামলা ও ভাংচুর চালায় বলে দাবি করেন অধাক্ষ্য।

তিনি বলেন, কোনোভাবেই অবৈধ্য উপায়ে ছাত্র ভর্তি করা হবে না। এ ঘটনায় মৌখিক ভাবে থানাকে অবহিত করা হয়েছে। তবে সোমবার লিখিতভাবে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তবে হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রলীগ সভাপতি শামসুল আরেফিন রবিন বলেন, ওই সময় তিনি সেখানে ছিলেন না।

সূত্র মতে, রাজশাহীর সরকারি কলেজগুলোতে এবারের একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই ভর্তি বাণিজ্যে নামে সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ। কিন্তু তারা সুবিধা করতে না পেরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।

এরই মধ্যে ছাত্রলীগ সিটি কলেজে কয়েক দফা হামলা ও ভাংচুর চালিয়েছে। এ ছাড়া রাজশাহী কলেজ ও রাজশাহী নিউ গভ: ডিগ্রি কলেজের ভর্তি কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মধ্য দিয়ে দু’টি কলেজে ভর্তি কার্যক্রম ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

ঢাকা, ৭ জুলাই (টাইমনিউজিবিডি.কম) // এআর