চাঁদপুরের কচুয়ার ভূঁইয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ে যুবলীগ নামধারীদের হামলায় দুই শিক্ষকসহ প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২২ শিক্ষার্থীকে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতদের মধ্যে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী তানিয়া আক্তারকে আশংকাজনক অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, শুক্রবার রাতে একই এলাকার মনির প্রধান, লিটন, ফারুকসহ যুবলীগ নামধারী কয়েকজন ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে জাতীয় শোক দিবস পালনের জন্য প্রধান শিক্ষক দুলাল চন্দ্র সরকারের কাছে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের উপবৃত্তির জন্য আসা টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা দাবি করেন।
টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তারা শনিবার দুপুরে এসে প্রধান শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
প্রধান শিক্ষককে তাদের হামলার হাত থেকে বাঁচাতে যেয়ে লাঞ্ছিত হন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও হোস্টেল সুপার ফজলুর রহমানও।
রাতে ওই ঘটনার জের ধরে যুবলীগ নামধারীরা আবারও সহকারী শিক্ষক ফজলুর রহমানকে মারধর করেন।
রবিবার সকালে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে এসে ওই ঘটনা জানতে পেরে এর প্রতিবাদে এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন।

এ সময় ১৫/১৬ যুবক লাঠিসোটা নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাদের হামলায় অন্তত ৩০ শিক্ষার্থী আহত হন।
পরে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা হামলাকারীদের বাড়িঘর ভাংচুর করে। হামলা চালিয়ে যুবকরা তাৎক্ষণিক এলাকা ছেড়ে চলে যায়।
হামলায় গুরুতর আহতরা হলেন- বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মুন্নি আক্তার, বিউটি আক্তার, শাবনুর, আরিফ হোসেন, পাখি আক্তার, সুজন; নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রিয়াদ হোসেন; অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সোনিয়া আক্তার, তানিয়া, পপি আক্তার, রিপা আক্তার, খাদিজা আক্তার বৃষ্টি; সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী শাকিলা আক্তার, সায়মা আক্তার, ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী তানজিলা আক্তার, মীম প্রমুখ।
কচুয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি নাজমুল আলম স্বপন এ প্রসঙ্গে জানান, ঘটনাটি সত্যিই দুঃখজনক। কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। তারা আমার যুবলীগের কেউ না। তাদের এলাকা ৪নং সহদেবপুর ইউনিয়নের কমিটিতেও তাদের নাম নেই।
কচুয়া উপজেলা সাংবাদিকদের নিকট ওই ইউনিয়ন যুবলীগের কমিটির কপি দিয়েছি। সাবেক মন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরের নির্দেশে তাদের আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হবে।

যুবলীগের নাম ভাঙিয়ে দলকে তারা কুলশিত করতে চায়। বিএনপি’র নামধারী প্রেতাত্মারা ওই ঘটনা ঘটিয়ে যুবলীগের উপর দোষ চাপাতে চাইছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং এজাহার অনুযায়ী আসামিদের গ্রেফতার করা হবে।
অপরদিকে, কচুয়ার ভূঁইয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ে দুই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপর হামলাকারী বখাটেরা যুবলীগের কেউ নয়এমন দাবি করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব আলী পাটওয়ারী, সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন চৌধুরী সোহাগ, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক নাজমুল আলম স্বপন, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজালাল প্রধান, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সৈয়দ রবিউল ইসলাম রাসেল, সাধারণ সম্পাদক হাবিব মজুমদার জয়।
পৃথকভাবে লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে তারা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।

এমকে





