প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিনদিনের সফরে আগামী রোববার কম্বোডিয়া যাচ্ছেন। এ সফরকালে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে বাংলাদেশের প্রতি দেশটির সমর্থন আদায় গুরুত্ব পাবে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি দলে বৌদ্ধ ভিক্ষুদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সম্প্রতি জাতিসঙ্ঘ সাধারণ অধিবেশনের থার্ড কমিটিতে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) উদ্যোগে মিয়ানমার ইস্যুতে নেয়া প্রস্তাবে যে ১০টি দেশ বিপক্ষে ভোট দিয়েছে, কম্বোডিয়া তার অন্যতম।
এ সফরকালে দুই দেশের মধ্যে বেসরকারী বিমান চলাচল নিয়ে একটি চুক্তি হবে। এছাড়া জয়েন্ট ট্রেড কাউন্সিল গঠন, শ্রম ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ খাত, মৎস্য ও অ্যাকুয়াকালচার খাত, বিনিয়োগ প্রসার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, পর্যটন, যুদ্ধের ইতিহাস, স্মৃতিস্তম্ভ এবং স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ, ২০৩০ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়ন, দুই দেশের শীর্ষ বাণিজ্যিক সংগঠনের মধ্যে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ ও রয়্যাল একাডেমি অব কম্বোডিয়ার মধ্যে সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হবে।
এছাড়া উভয় দেশ তাদের জাতির পিতার সম্মানে স্ব স্ব দেশের রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নামকরণ করবে। এ ক্ষেত্রে ঢাকার বারিধারা কূটনৈতিক এলাকার বারিধারা পার্ক রোডটি কম্বোডিয়ার প্রয়াত রাজা নরোদম সিহানুকের নামে নামকরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
একইভঅবে কম্বোডিয়া সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে নমপেনের একটি প্রধান সড়কের নামকরণ করবে।
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী, এসডিজির মুখ্য সমন্বয়ক, বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও পশু সম্পদ মন্ত্রণালয়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থাকবেন।
এছাড়া শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধিদলও প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হবেন।
সফরের ওপর আলোকপাত করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী আজ এক সংবাদ সম্মেলন বলেন, কম্বোডিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাংলাদেশের অন্যতম বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র।
ঐতিহ্য, মূল্যবোধ এবং সংস্কৃত-পালি প্রভাবিত সভ্যতার বিচারে দু’দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক প্রাচীন ও নিবিড়। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উভয় দেশ একটি রুপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
আশা করা যায়, ২০২১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়া স্বল্প আয়ের দেশ হতে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হবে।
তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক বিদ্যমান। ২০১৪ সালের ১৬ থেকে ১৮ জুন কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুনসেন বাংলাদেশ সফর করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কম্বোডিয়া যাচ্ছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, কম্বোডিয়ার রাজা, সিনেটের প্রেসিডেন্ট এবং ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্টের সাথের সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
এছাড়া দুই দেশের শীর্ষ বাণিজ্যিক সংগঠন আয়োজিত একটি সংলাপে তিনি প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখবেন। শেখ হাসিনা কম্বোডিয়ার স্বাধীনতার স্মৃতিস্তম্ভ ও কম্বোডিয়ার প্রয়াত রাজার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন এবং তার সম্মানে দেয়া একটি নৈশভোজে অংশ নেবেন।
মাহমুদ আলী বলেন, এ সফর দুই দেশের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা সহযোগিতা সুদৃঢ়করণ, কৃষি, মৎস্য, পর্যটন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক অবদান রাখবে। রাজনৈতিক দিক থেকে এ সফর আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়লগ পার্টনার হওয়ার বাংলাদেশের উদ্যোগ এবং মেকং গঙ্গা কো-অপারেশনে বাংলাদেশের যোগদানের পক্ষে কম্বোডিয়ার সমর্থন আদায়ে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
এ সফর দু’দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেবে। পাশাপাশি আসিয়ানভুক্ত অন্যতম বৌদ্ধ প্রধান রাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরো নিবিড় ও সুদৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এমএ





