ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তাসহ সবকটি নদ-নদীর পানি হ্রাস পাওয়ায় জেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
বানভাসিরা ঘরে ফিরতে শুরু করলেও দুর্ভোগ তাদের পিছু ছাড়ছে না। বসতভিটা থেকে পুরোপুরি পানি নেমে না যাওয়ায় হাঁটুজল ও কাদা মাটিতে অতিকষ্টে দিন কাটছে তাদের। এ অবস্থায় হাতে কাজ না থাকায় ত্রাণ সহায়তার ওপর নির্ভর করে চলছে পরিবারগুলো। কিন্তু সরকারি ও বেসরকারিভাবে পর্যাপ্ত ত্রাণ তৎপরতা না থাকায় খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে অনেক পরিবারের। বন্যা দুর্গত এলাকায় ঘরে ঘরে দেখা দিয়েছে পানিবাহিত নানা রোগের প্রাদুর্ভাব।
বন্যার প্রবল স্রোতে প্রায় ৫ হাজার কাঁচা ঘর-বাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিবারগুলো এখনও ঘরে ফিরতে পারেনি। এখনও বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে দিন কাটাচ্ছে এসব পরিবার।
অন্যদিকে বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষিতে। ২০ দিনের টানা বন্যায় জেলায় প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমনসহ মৌসুমী ফসল সম্পূর্ণ রূপে নষ্ট হয়ে গেছে।
অনেকে তাদের গৃহপালিত পশু-পাখি বিভিন্ন উঁচু এলাকায় স্থানান্তর করেছেন। আবার অনেকে বাড়িতেই কলার ভেলায় বা কাঠ-বাঁশের মাচা করে গরু-ছাগল-ভেড়া, মহিষ রেখেছেন। তারা দূর-দূরান্ত থেকে নৌকায় করে সংগ্রহ করে কাশিয়া, পাট পাতা ও ধনচা পাতা গরু-মহিষকে খাওয়াচ্ছেন। এতে পশুর খাদ্য চাহিদা মিটছে না। ফলে খাদ্যের অভাবে তাদের সম্পদ পশু-পাখির স্বাস্থ্যহানি ঘটছে, দুর্বল হয়ে পড়ছে, আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন রোগে।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম জেলায় প্রায় ৫ লাখ ৬৮ হাজার গরু, ১০ হাজার মহিষ, ২ লাখ ৪২ হাজার ছাগল, ১ লাখ ৩০ হাজার ভেড়া, ২৭ লাখ ৫০ হাজার মুরগি, ১২ হাজার হাঁস, ৭৭ হাজার কবুতরসহ অন্যান্য কিছু প্রাণি বসতবাড়িতে এবং ফার্মে লালন-পালন হচ্ছে। এর মধ্যে কুড়িগ্রামের ৯ উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে ২ লাখ ৫০ হাজার গরু, ৫ হাজার মহিষ, ১ লাখ ২০ হাজার ছাগল, ৬০ হাজার ভেড়া, ১৩ লাখ মুরগী সংকটে পড়েছে।
জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুস ছামাদ মিয়া জানান, বন্যার সময় ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে গরুর খুরা রোগ দেখা দেয়। আমরা এরই মধ্যে রোগ প্রতিরোধে ভ্যাকসিন দেয়ার কাজ শুরু করেছি। এ ছাড়া বন্যাদুর্গত এলাকায় পশু সম্পদ রক্ষায় ২ কোটি ২৭ লাখ ৪০ হাজার টাকার জন্য আবেদন করা হয়েছে। প্রতি গরুর জন্য ৭ দিনে ১ কেজি খাবার ৪৫ টাকা দাম ধরে এ চাহিদা তৈরি করা হয়েছে।
ঢাকা, ৫ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই





