শ্রমিকদের ডাকা পরিবহন ধর্মঘটে শ্রমিকদেরই গুলিতে বাসের হেলপার শাহিনুর রহমান মারা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এজন্য পুলিশ বাদী একটি মামলাও হয়েছে দারুস সালাম থানায়। সেই মামলার এজাহারে এমনটাই দাবি করেছে পুলিশ।
তবে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিকদের দাবি, সেদিন শ্রমিকরা কোনো গুলি ছোড়েনি। পুলিশকে লক্ষ্য করে শুধুমাত্র ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেছে। সরু গলির মুখে থাকা শ্রমিক শাহিনুরের পেটে গুলি লাগে। দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে মৃত্যুর খবর আসে।
মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদ, মিশুক মুনীরসহ পাঁচজনের মৃত্যুর মামলায় এক বাসচালকের যাবজ্জীবন ও সাভারে ট্রাকচাপা দিয়ে এক নারীকে হত্যার দায়ে ট্রাকচালকের মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত। এর প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার শ্রমিকরা আকষ্মিকভাবে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয়।
ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিন সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল এলাকায় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হন চালকের সহকারী শাহিনুর রহমান (৩৭)। গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢামেকে ভর্তি করা হয়। পরে সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শাহিনুর।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি ব্লকের আবাসিক সার্জন জেসমিন নাহার জানান, ওই শ্রমিকের বুকে ও পেটে ছররা গুলির জখম ছিল, শরীরের ভেতরে রক্তক্ষরণে মারা যান।
এ ঘটনায় দারুস সালাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এলিস মাহমুদ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৭০০ থেকে ৮০০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
মামলার এজাহারে উল্ল্যেখ করা হয়, গত বুধবার ৭০০ থেকে ৮০০ আসামি গাবতলীর আল্লাহর দান হোটেলের সামনের কারমাইকেল রোডে অবস্থান করেন। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে জনগণকে রাস্তায় চলাচলে বাধা দেয়। আন্দোলনকারী শ্রমিকেরা জনগণের ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা বাস ভাঙচুর করে। বাসে থাকা সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের হট্টগোল হয়।
সেদিন সকাল ১০টার দিকে অজ্ঞাতনামা আন্দোলনকারী শ্রমিকেরা সাধারণ জনগণের ওপর গুলি চালালে একজন আহত হয়ে রাস্তায় পড়ে যায়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মারা যায়।
এ ব্যাপারে দারুস সালাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সেলিমুজ্জামান বলেন, ধর্মঘটের মধ্যে গত বুধবার পুলিশ নয়, শ্রমিকদের ছোড়া গুলিতে শাহিনুর মারা গেছে। কে গুলি ছুড়েছিল তা খতিয়ে দেখার জন্যই মামলা হয়েছে।
ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আহমেদ জানান, শ্রমিকদের মধ্য থেকে কে গুলি করেছিল তা তো নিশ্চিত নয়। তদন্ত করেই তা দেখা হবে।
ট্রাক চালক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রুস্তম আলী জানান, সেদিন সবাই দেখেছে পুলিশ কিভাবে শ্রমিকদের ওপর চড়াও হয়েছিল। শ্রমিকরা ধর্মঘট পালনকালে হয়তো বেশি আন্দোলনমুখী হয়েছিল। কিন্তু কোনো শ্রমিক গুলি ছোড়েনি। সবাই দেখেছে পুলিশই শ্রমিকদের ওপর টিয়ারসেল, কাঁদানে গ্যাস ও গুলি ছুড়েছে।
সে দিন আন্দোলনে অংশ নেয়া একটি লোকাল বাসের চালক শফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশ প্রথমে টিয়ারসেল ও পরে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এরপরই শ্রমিকরা সরে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় হঠাৎ আল্লাহর দান মসজিদের পাশের সরু গলির মুখ থেকে কান্নার আওয়াজ আসে। কাছে গিয়ে দেখি রক্তাক্ত শাহিনুর। তাৎক্ষনিকভাবে শাহিনুরের কাছে যেতে দেয়নি পুলিশ।
এমএনজে





