সম্প্রতি আলোচিত কিছু হত্যাকাণ্ডে আলোচনায় আসে 'কিশোর গ্যাং'। রাজধানীসহ দেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে গড়ে উঠেছে এই কিশোর গ্যাং। যাদের গ্রুপিং কারণে এ পর্যন্ত প্রাণ হারাতে হচ্ছে অনেককে।

অতি সম্প্রতি আলোচিত রিফাত হত্যাকাণ্ডেও কিশোর গ্যাং শব্দটি কাজ করেছিল। তাদের গ্যাং গ্রুপের নাম '০০৭'। যার প্রধান ছিল বন্দুকযুদ্ধে নিহত নয়ন বন্ড।

এরই আদলে অভিযানে নেমে গত শনিবার রাজধানীর উত্তরা থেকে ‘ফার্স্ট হিটলার বস’ (এফএইচবি) নামক কিশোর গ্যাং গ্রুপের ১৪ জনকে অস্ত্রসহ আটক করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

শনিবার (২০ জুলাই) মধ্যরাতে রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানাধীন রাজউক অফিসের সামনে থেকে তাদের আটক করে র‍্যাব-১।

আটকরা হলেন- বিশু চন্দ্র শীল (২০), নাঈম মিয়া (১৮), ইয়াসিন আরাফাত (১৮), আসিফ মাহমুদ (২০), ফরহাদ হোসেন (২১), আল আমিন হোসেন (১৯), বিজয় (১৯), শাওন হোসেন সিফাত (২১), ইমামুল হাসান মুন্না (১৯), তানভীর হাওলাদার (১৮), আকাশ মিয়া (১৮), মেরাজুল ইসলাম জনি (২০), হযরত আলী (১৮) ও রাজিব (১৮)। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি এসবিবিএল অস্ত্র ও ২টি ধারালো ছোড়া উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব-১ এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্ণেল সারওয়ার বিন কাশেম জানান, রাজধানীর উত্তরা, আব্দুল্লাহপুর, টঙ্গী, উত্তরখান, দক্ষিণখান ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় কিছুদিন ধরে কয়েকটি কিশোর গ্যাং গ্রুপ দৌরাত্ম্য চালাচ্ছিল। তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার বিষয়টি র‍্যাব-১ এর নজরে আসে।

এই গ্যাং গ্রুপ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, স্কুল কলেজে র‍্যাগিং, স্কুল-কলেজের ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত, মাদক সেবন, ছিনতাই, উচ্চ শব্দে মোটরসাইকেল চালিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টিসহ ছিনতাই করে আসছিল। কেউ বাধা দিতে গেলে শারীরিক নির্যাতন করতো। তাদের গ্যাংভিত্তিক নিজস্ব লোগো রয়েছে, যা দেয়াল লিখন ও ফেসবুকে ব্যবহার করা হতো।

এক গ্রুপ অন্য গ্রুপকে হুমকি দিয়ে স্ট্যাটাস দেয়া এবং পরস্পরের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর মন্তব্য করে ফেসবুকে পোস্ট করে আসছিল। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক গ্রুপ অন্য গ্রুপের সাথে কোন্দলে লিপ্ত হতো। কিশোর গ্যাং গ্রুপের আন্তঃকোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কয়েকটি হত্যাকাণ্ডে যার প্রমাণ পাওয়া যায়।

জেড