২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরের বাজেট শিল্প ও বিনিযোগের উপযোগী বলে মন্তব্য করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের কারণে ধনী-গরীবের বৈষম্য কমে যাচ্ছে। আর্থ সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ বিশ্বে এখন রোল মডেল। অর্থমন্ত্রীর সুন্দর বাজেট প্রণয়নের কারণে দেশ অর্থনীতিতে এগিয়ে যাচ্ছে তাই অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় এ মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশীয় শিল্পের বিকাশ ঘটানোর জন্য আমদানি কৃত প্রস্তুত মালামালের ক্ষেত্রে শুল্ক বাড়ানো হয়েছে এবং যে পন্য দেশে তৈরী হবে তার কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক কমানো হয়েছে। যেমন: ঔষধ শিল্প, তাঁত শিল্প। এর ফলে দেশীয় শিল্পের ব্যাপক বিকাশ ঘটবে। এছাড়া জীবন রক্ষার জন্য যে বিশেষ ঔষধ রয়েছে (যেমন ক্যান্সার) তা আমদানি করার ক্ষেত্রে শুল্ক মুক্ত করা হয়েছে।
শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির কথা উল্লেখ করে বলেন, আমাদের দেশে এখন কোনো সেশন জট নেই। আর অর্থবছরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ গুলোতে ১০শতাংশ কর কমানোর জন্য অর্থমন্ত্রীকে আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রমজানে যাতে পণ্যের দাম না বাড়ে তাই জাতীয় ভক্তা আইন-২০০৯, ফরমালিন নিয়ন্ত্রেনের জন্য ফরমালিন নিয়ন্ত্রন আইন-২০১৪ ও টিসিবি কার্যকর করা হয়েছে। এরপরও যদি দাম বাড়ার অভিযোগ পাওয়া যায় সেজন্য বিশেষ সেল করা হয়েছে যেখানে মানুষ অভিযোগ করতে পারবে।
শেয়ার বাজার সুন্দর করে নিয়ন্ত্রন করার মাধ্যমে সুস্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে এনে পুজিবাজারের উন্নয়ন করা হয়েছে। এজন্য একটি আন্তর্জাতিক পুরষ্কার পাওয়ার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া শেয়ার বাজারের সমস্যা সমাধানের জন্য অনেকগুলো বিশেষ কমিটি করা হয়েছে বলে জানান শেখ হাসিনা।
বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের যারা সমালোচনা করে তারা বলুক দিনাজপুরের কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে পরিবেশের কি ক্ষতি হয়েছে। এই দেশ আমার দেশ। আমি যদি জানি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে পরিবেশের ক্ষতি হবে তাহলে আমি নিজেই রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতাম না।
এছাড়া, সার্বভ্রমত্ব রক্ষায় সামরিক বাহিনীর ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, স্বধীনতা পর আমরা সামরিক খাতে যে উন্নয়ন করেছি, সামরিক বাহিনী ক্ষমতায় থাকতেও এতো উন্নয়ন করেনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্র নীতি 'সবার সাথে বন্ধুত্ব কারো সাথে শত্রুতা নয়' এই নীতির আলোকে অন্যান্য দেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়েছে। আর মাদক পাঁচার বিশেষ করে ইয়াবা নিয়ন্ত্রনে ভারতের সাথে একত্রে কাজ করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।
যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে প্রধঅনমন্ত্রী বলেন, তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের জন্য আমরা হাইটেক পার্ক করেছি, জনগন যে বিদেশে মোবাইল ফোনে চেহারা দেখে কথা বলেন তাআমাদের অবদান। এছাড়া যোগাযোগের জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক এবং দেশের বিভিন্নস্থানে সড়ক ও ঢাকা শহরে ফ্লাই এভার নির্মান আওয়ামী লীগ সরকারের তৈরী।
বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি দল মানুষ পুড়িয়ে মেরে আত্মতুষ্ঠি উপভোগ করে। তারা এক বিভৎস খেলায় মেতে উঠেছে। আর তাই আওয়ামী লীগ সরকার জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রনে জিরো টলারেন্স লক্ষ রেখে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
ইআর





