লালমনিরহাটে হত্যা মামলায় ৬ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
লালমনিরহাটের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক সিদ্দিকুল আরেফিন চৌধুরী বৃহস্পতিবার দুপুরে এ দণ্ডাদেশ দেন।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান ইউনিয়নের ছয়আনি পিত্তিফাটা গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে আবু সামা, বাহার উদ্দিনের ছেলে রহম আলী ও তার ভাই জমের আলী, একই উপজেলার শেখ সিন্দুনা গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে রফিক, মোকছেদ আলীর ছেলে ফজর আলী ও শুকর আলীর ছেলে মোতালেব।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালের ২২ ডিসেম্বর সকালে ওই এলাকার মতিয়ার রহমান এবং তার দুই ছেলে রাশেদুল ও আবু হোসেন তাদের জমিতে ভুট্টা চাষ করতে গেলে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়।
একপর্যায়ে আসামিরা মতিয়ার ও তার দুই ছেলেকে লাঠি সোটা দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাতীবান্ধা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাশেদুলকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে ওই দিন রাতেই তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় রাশেদুলের বাবা মতিয়ার রহমান বাদী হয়ে ২৫ ডিসেম্বর ১০ জনকে আসামি করে হাতীবান্ধা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ শুনানি শেষে আসামিদের উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার এ রায় দেন বিচারক। আসামিদের দুজন মৃত্যুবরণ করায় বাকি ৮ আসামির মধ্যে দুইজনকে বেকসুর খালাস দিয়ে ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করেন। এ ছাড়া প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
মামলায় বেকসুর খালাসপ্রাপ্তরা হলেন- সাজাপ্রাপ্ত আবু সামার স্ত্রী কুলসুম বেগম ও রহম আলীর স্ত্রী আলেয়া বেগম।
ইআর





