চাহিদার অতিরিক্ত চাল আমদানি ও তার বড় অংশ মজুদ থাকা এবং এবার অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণেই ধানের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমেছে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।

ধানের স্বল্পমূল্যের বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৩০ মে) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন তিনি।

সরাসরি প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে ধান কেনা ও লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর দাবিতে কয়েকদিন ধরেই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে।

শনিবারও সুনামগঞ্জের আলফাত স্কয়ারে কৃষক সংহতির ব্যানারে এই কর্মসূচি হয়। এতে বক্তারা বলেন, হাওরে ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১৩ লাখ মেট্রিক টন হলেও সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছে ৬ হাজার মেট্রিক টন। ফলে ধানের ন্যায্যমূল্য থেকে অধিকাংশ চাষীই বঞ্চিত হবেন।

এরকম বাস্তবতায় রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী বলছেন, এবার ধান উৎপাদন হয়েছে অস্বাভাবিকরকম বেশি। ফলে বাজারে দাম কম। ধানের দাম নিয়ে সরকার দুশ্চিন্তায় আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, চাহিদার অতিরিক্ত চাল আমদানি ও তার বড় অংশ মজুদ থাকা এবং এবার অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণেই ধানের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমেছে।

ভবিষ্যতে ধানের ক্রয়মূল্য আগেই নির্ধারণ ও চাষিদের তালিকা করে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা হবে। এছাড়া গুদামে ধারণ ক্ষমতা বাড়ানো হবে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিমুক্ত রেখে ১০ থেকে ১৫ লাখ টন চাল রফতানি করবে সরকার।

কৃষকের এমন দুর্দিনের তাদের পাশে থাকতে না পারাকে দুঃখজনক বলছেন জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদের। দলের চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, চাল রপ্তানির সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা দরকার।

এদিকে কুষ্টিয়া, নওগাঁসহ বিভিন্ন স্থানে সরকারিভাবে ধান কেনা শুরু হয়েছে। তবে সেই সংখ্যা খুবই কম। ফলে চলমান সংকট নিসরনে তা কতটা ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষকরা।

এএস