তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়ায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এসময় সংখ্যালঘুদের স্বর্ণ, টাকা, প্রয়োজনীয় জমির কাগজপত্র ও মালামালসহ প্রায় ১২ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।

বুধবার গভীর রাতে উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের পশ্চিম গামছাখালী গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে রাজন চন্দ্র দাস (২৫), জুতি রানী দাস (৪৫), মৌ রানী দাস (১৬), মিনু রানী দাস (বাসনা) (৬৪), মো.আরিফ উদ্দিনকে (৩২) হাতিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

আহতরা জানান, পশ্চিম গামছাখালী গ্রামে রাজন চন্দ্র দাসের মালিকানাধীন একটি বাড়িতে তারা দীর্ঘদির ধরে বসবাস করে আসছেন। কিছু দিন আগে ওই এলাকার রোকেয়া বেগমের (৪৫) পক্ষে বাবুল উদ্দিন (২৯) বেলাল উদ্দিন (৩৯), মোছলেহ উদ্দিন (৩৮), নাছির উদ্দিনসহ (৪৫) বেশকিছু লোক ওই জমি ও বাড়ির মালিকানা দাবি করেন। ওই বাড়িতে থাকতে হলে তাদের চাঁদা দিতে হবে অন্যথায় উচ্ছেদ করারও হুমকি দেন তারা।

বিষয়টি নিয়ে অনেকবার শালিসি বৈঠক হয়েছে। তবে প্রতিপক্ষরা কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। দাবিকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ির মালিক রাজন চন্দ্র দাসসহ ১০ জনকে মারধর করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা স্বর্ণ, টাকা, প্রয়োজনীয় জমির কাগজপত্র ও মালামালসহ প্রায় ১২ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। চিৎকার শুনে পাশের বাড়ির লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

এ ঘটনায় হাতিয়া থানায় ১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়েছে বলেও জানান আহতরা।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আব্দুস সামাদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ব্যপারে হাতিয়া থানায় একটি মামলা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
জেআই