অনেক জল্পনা কল্পনার শেষে এলজিআরডি মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব থেকে সৈয়দ আশরাফকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তাকে দফতরবিহীন মন্ত্রী করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি এখন থেকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬ এর রুল ৩৯(৪) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই দুই মন্ত্রীর মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়েছে।
এর আগে ৭ জুলাই সৈয়দ আশরাফের অব্যাহতির খবর গনমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে তা মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাকচ করে দেন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বলার মতো কোনো খবর আমার কাছে নেই।’
একনেকে বৈঠকে অংশ নেওয়া একজন বলেন, ‘বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, উনি (আশরাফ) মিটিং-টিটিংয়ে আসেন না, এজন্য সরিয়ে দিলে ভালো হয়।’
সাত বছর ধরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সামলে আসা ৬৩ বছর বয়সি সৈয়দ আশরাফ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকও।
একনেকের বৈঠকে সৈয়দ আশরাফ অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি নির্বাচনী এলাকা কিশোরগঞ্জে ছিলেন, তবে সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি তিনি।
২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির পর শেখ হাসিনাসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের বন্দি হওয়ার প্রেক্ষাপটে দলে সাধারণ সম্পাদকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের ভার আসে জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে আশরাফের উপর।
দায়িত্ব পালনে আশরাফের সফলতার মধ্যে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল পরে মুক্তি পেলেও দায়িত্বে আর ফিরতে পারেননি। পরে ২০০৯ সালে কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন আশরাফ।
তার আগে ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে শেখ হাসিনার সরকারে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন সৈয়দ আশরাফ। ২০১৪ সালে শেখ হাসিনা পুনরায় সরকার গঠন করলে একই দায়িত্বই তাকে দেন শেখ হাসিনা।
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর জেলখানায় সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পর লন্ডনে চলে যান আশরাফ। সেখানে আওয়ামী লীগে সক্রিয় ছিলেন তিনি।
১৯৯৬ সালে দেশে ফিরে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর শেখ হাসিনার ওই সরকারে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হন তিনি।
১৯৯৬ সাল থেকে প্রতিটি সংসদ নির্বাচনেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
ইআর/এআর





